রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির পর সুনামগঞ্জে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় নিম্নাঞ্চলের মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল থেকে জেলার আকাশে রোদের দেখা মিলেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন নদ-নদীর পানির উচ্চতাও কমতে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার অধিকাংশ নদ-নদীর পানি এখন নিম্নমুখী। তবে ছাতক পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যদিও আগের তুলনায় পানির উচ্চতা কমেছে।
অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় ও দিরাই পয়েন্টেও পানির উচ্চতা কমেছে।
গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাইসহ জেলার প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ডুবে যায় গ্রামীণ সড়ক, দুর্ভোগে পড়েন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ।
তবে সোমবার বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি না হওয়া এবং রোদ ওঠার কারণে নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। অনেক এলাকায় প্লাবিত সড়ক থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। কোথাও কোথাও এখনো পানি থাকলেও আগের তুলনায় স্রোতের তীব্রতা অনেকটাই কমেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিনের দুর্ভোগের পর রোদের দেখা পাওয়ায় তারা স্বস্তি অনুভব করছেন। তবে নিচু এলাকার অনেক স্থানে এখনো পানি জমে আছে। পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছেন তারা।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, সোমবার বিকেল থেকে রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া থাকায় নদ-নদীর পানি ধীরে ধীরে কমছে। যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল, সেসব এলাকার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম