রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি কেন—এ প্রশ্ন তুলে জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের মতামত এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর (ফুল ক্রেডিট) দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
রুমিন ফারহানা বলেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা কয়েক দিন পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। কিন্তু সেই দাবি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে রাজধানীতে আন্দোলনও হয়েছে। এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সেটি অন্তত এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কী সমস্যা ছিল এ প্রশ্ন তিনি মন্ত্রীর কাছে রাখেন।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি জানান, বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ পুরো বোর্ডের পরীক্ষা আগেই স্থগিত করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ জন্য ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। সবার মতামত বিবেচনা করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রের ভবনে পৌঁছে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে অনেক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাদের বিকল্প পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজন হলে পরীক্ষা স্থগিত বা বিলম্বে নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া ছিল বলে জানান তিনি।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশনের কাজ প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র চার মাস আগে। ফলে প্রশ্নগুলো আগের সময়ের মডারেটরদের প্রস্তুত করা। তবে ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মার্জিয়া বেগমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে সাধারণ বা বিশেষায়িত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন ভেটিংয়ের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকার পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে সেখানে একটি বিশেষায়িত ‘স্কুল অব অ্যাগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম