| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই ভাইয়ের মৃত্যু: বাড়িতে শোকের মাতম

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ১৬, ২০২৬ ইং | ২৩:০৪:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৪৫০ বার পঠিত
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের দুই ভাইয়ের মৃত্যু: বাড়িতে শোকের মাতম

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই ভাই। পরিবারের স্বপ্ন ছিল বিদেশে উপার্জন করে সংসারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবের দাম্মামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের দুই ভাই। বুধবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় তাদের পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সন্তানকে হারিয়ে কানায় বারবার মুচ্ছা যাচ্ছেন নিহতদের মা ও বাবা। 

নিহতরা হলেন লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গলিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির আব্দুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও সুজন। সজীব বড় এবং সুজন ছোট ভাই।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। বিভিন্ন বাগান থেকে খেজুর সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করতেন। চলতি বছরের শুরুতে কাজের সহযোগিতার জন্য তিনি ছোট ভাই সুজনকেও সৌদি আরবে নিয়ে যান।

বুধবার বাংলাদেশ সময় আনুমানিক রাত ৩টার দিকে খেজুর বোঝাই একটি পিকআপ নিয়ে বাগান থেকে ফেরার পথে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাক-লরিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়।

রাতেই সহকর্মীরা ফোনে মৃত্যুর খবর পরিবারের সদস্যদের জানালে মুহূর্তেই শোকে ভেঙে পড়ে পুরো পরিবার। একসঙ্গে দুই সন্তানের মৃত্যুর খবরে বাবা আব্দুল মালেকের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির পরিবেশ। মা ফাতেমা বেগম বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন। তার আকুতি, দ্রুত যেন তার বুকের মানিক দুই সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

ছোট বোন সাফি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি শেষবারের মতো দুই ভাইয়ের মরদেহ বুকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানাতে চান। দুই ভাইকে হারিয়ে ছোট ভাই শুভও দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছুটে বেড়াচ্ছে।

এদিকে, নিহত সজীবের স্ত্রী ও চার বছর বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

বর্তমানে দুই ভাইয়ের মরদেহ সৌদি আরবের দাম্মামের একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত মরদেহ দেশে এনে ধর্মীয় মর্যাদায় দাফনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন নিপা বলেন, পরিবারের আবেদন পাওয়ার পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা করা হবে।

একসঙ্গে দুই ভাইয়ের অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকে নয়, শোকাহত করেছে পুরো এলাকাকে। এখন স্বজনদের একটাই অপেক্ষা প্রিয় দুই সন্তানের মরদেহ দেশে ফিরবে, আর শেষবারের মতো বিদায় জানাতে পারবেন তারা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪