স্পোর্টস ডেস্ক: লিওনেল মেসির অসাধারণ দুই অ্যাসিস্টে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে যোগ করা সময়ে লাউতারো মার্তিনেজের গোলে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের বড় সময়জুড়ে ইংল্যান্ড মেসিকে থামানোর চেষ্টা করেছে। প্রথমার্ধে মাঝমাঠে জায়গা না পেলেও পরে ডান প্রান্তে সরে গিয়ে আর্জেন্টিনার আক্রমণ সাজাতে শুরু করেন তিনি। মেসির এই অবস্থান বদলের পরই আর্জেন্টিনার খেলা বদলে যায়। থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডও তাকে আটকে রাখতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়, এমনকি ডান প্রান্তে ডজেড স্পেন্সকে সাহায্য করতে নিকো ও’রাইলিকেও নামানো হয়।
তবে ৮৫তম মিনিটে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেদ করেন মেসি। বক্সের সামনে প্রতিপক্ষের ঘেরাটোপের ভেতর থেকে নিখুঁত পাসে এনসো ফার্নান্দেসকে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেন তিনি। সেই গোলে ম্যাচে সমতা ফেরায় আর্জেন্টিনা।
এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে জয়সূচক মুহূর্ত। বাম প্রান্ত থেকে ছুটে এসে মেসি আবারও ডান পায়ের নিখুঁত ক্রসে বল পাঠান দূরের পোস্টে। সেখানে জন স্টোনস ও এজরি কনসার মাঝখানে ফাঁক গলে উঠে এসে হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনা ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় এবং সেখানেই শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রতিরোধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ৩৯ ছুঁলেও মেসির নিয়ন্ত্রণ, গতি ও সৃজনশীলতায় পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। প্রতিপক্ষ যতই তাকে ঘিরে ফেলুক, শেষ পর্যন্ত তারই জাদুতে ভেসে যায় আর্জেন্টিনা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল লিওনেল স্কালোনির দল। এখন তাদের সামনে শিরোপা ধরে রাখার শেষ বাধা স্পেন।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসির অনবদ্য পারফরম্যান্সকে ‘বিশ্বকাপ মোমেন্ট অব দ্য ডে’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম। গোল করতে না পারলেও দুইটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনাকে ২-১ ব্যবধানে নাটকীয় জয় এনে দিয়ে আবারও প্রমাণ করেছেন—৩৯ বছর বয়সেও তিনিই বিশ্ব ফুটবলের ‘রাজা’।