| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ায় কড়াই নিয়ে থানায়

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২২, ২০২৬ ইং | ২২:৩৫:৪৭:অপরাহ্ন  |  ১৫১৭ বার পঠিত
রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হওয়ায় কড়াই নিয়ে থানায়

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় রান্না করার সময় গরুর মাংসের রং লাল থেকে অস্বাভাবিকভাবে সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে পৌর এলাকার মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা পিকনিকের জন্য কেনা মাংস রান্না করতে গিয়ে এই অদ্ভুত কাণ্ড দেখতে পান। পরে রান্না করা মাংসসহ কড়াই নিয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পাইকগাছার মডার্ন বেকারির ২৫ জন কর্মচারী একসঙ্গে ভোজের আয়োজন করেছিলেন। সকালে বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেনসহ তিনজন পাইকগাছা বাজারের মাংস বিক্রেতা ইসমাইলের দোকানে যান। সেদিন সকালে জবাই করা গরুর সব মাংস বিক্রি হয়ে যাওয়ায় বিক্রেতা ইসমাইল তাদের আগের দিনের ফ্রিজে সংরক্ষিত চার কেজি মাংস দেন।

বেকারির কর্মচারীদের ভাষ্যমতে, তেল-মসলা দিয়ে স্বাভাবিক নিয়মে মাংস রান্না শুরু করার কিছুক্ষণ পরই এর স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হতে শুরু করে। যতই নাড়াচাড়া করা হচ্ছিল, পরিবর্তিত রং ততই গাঢ় হতে থাকে। বিষয়টি দেখে তারা চুলা থেকে কড়াই নামিয়ে অন্যদের ডাকেন এবং পরে মাংসসহ কড়াই নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতার দোকানে যান। সেখানে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পেয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলে কড়াইসহ থানায় যান তারা। পরে ওই মাংস ফেলে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি ভ্যানে কড়াইভর্তি সবুজ রঙের মাংস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বেকারির কর্মচারীরা। সেখানে উপস্থিত এক কর্মচারী জানান, তারা রান্নায় কোনো ধরনের রং বা রাসায়নিক ব্যবহার করেননি। মাংস কড়াইয়ে দেওয়ার পরই অস্বাভাবিকভাবে সবুজ রং বের হতে শুরু করে। পরে মাংস বিক্রেতাকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি মাংসে কোনো সমস্যা নেই বলে দাবি করেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মাংস বিক্রেতা ইসমাইল বলেন, সকালে জবাই করা মাংস শেষ হওয়ার পর ফ্রিজে সংরক্ষিত মাংস থেকে তিনি আরও ১০ থেকে ১২ জন ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছেন। কিন্তু শুধু মডার্ন বেকারির কর্মচারীরাই অভিযোগ করেছেন, অন্য কোনো ক্রেতা এমন কোনো কথা বলেননি। তার দাবি, বেকারিতে ব্যবহৃত কোনো রাসায়নিক বা অন্য কোনো কারণে এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে বেকারির কর্মচারীরা বিক্রেতার এই দাবি জোরালোভাবে নাকচ করে মাংসের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর উপজেলা পরিষদ এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। অনেকেই মাংসের এমন অস্বাভাবিক রং পরিবর্তন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি নিজেও আগে কখনো এমন রঙের মাংস দেখেননি বলে জানান।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, দুপুরে বেকারির কর্মচারীরা রান্না করা মাংসের কড়াই নিয়ে থানায় এসেছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা রাজি হননি এবং মাংস দেখিয়ে কিছুক্ষণ পর কড়াই নিয়ে চলে যান।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪