| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আজও উন্নয়ন হয়নি কৃষ্ণরামপুরের জেলে পল্লীর রাস্তাটির

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৮, ২০২৬ ইং | ০৫:৫৭:১৮:পূর্বাহ্ন  |  ১০১০৯৯৮ বার পঠিত
আজও উন্নয়ন হয়নি কৃষ্ণরামপুরের জেলে পল্লীর রাস্তাটির

দীপক চক্রবর্তী (মাগুরা): স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও  উন্নয়ন হয়নি মাগুরা সদর উপজেলার কেচুয়াডুবি কৃষ্ণরামপুর জেলে পল্লীর রাস্তাটির। সামান্য বৃষ্টি হলেই হয়ে যায় রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা । ফলে, সামান্য বৃষ্টিতেই শতাধিক পরিবারের পোহাতে হয় চরম র্দূভোগ। একটা রাস্তার অভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই জেলে পল্লীটি বর্তমানে অবহেলিত এক জনপদে পরিনত হয়েছে।  গ্রামবাসীর দাবি প্রতিদিন সহস্রাধিক পথচারীর চলাচলের এই এক কিঃমিঃ রাস্তাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ অনতিবিলম্বেপাকা করে গ্রামবাসীর দূর্ভোগের হাত থেকে বাঁচানোর উদাত্ত আহব্বান জানান। 

মাগুরা সদর উপজেলা থেকে প্রায় ১৪ কিঃমিঃ দূরে ও শালিখা উপজেলা সদর আড়পাড়া বাজার সংলগ্ন ফটকী নদীর তীর ঘেঁসে গড়ে উঠেছে শতাধিক পরিবারের এই জেলে পল্লীটি। গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই মৎস্য ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এছাড়া গ্রামে আছেন ব্যবসায়ী,ডাক্তার, শিক্ষক সহ বিভিন্ন পেশা জীবি মানুষ হলেও গ্রামের সকল পরিবারই কৃষি পেশার সাথে জড়িত। গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্কুল কলেজে লেখাপড়া করে। এসকল শিক্ষার্থীদের এই কর্দমাক্ত রাস্তা দিয়েই প্রতিনিয়ত আসাযাওয়া করতে হয়। ফলে, সামান্য বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে তাদের যেতে হয় স্কুল কলেজে। শুধু তাইনয় সহস্রাধিক পথচারী এই রাস্তাদিয়েপ্রতিদিন আসাযাওয়া করেন বলে গ্রামবাসী জানান। 

গ্রামবাসী আরও জানান, নেতা আসেন, নেতা যান। কিন্তু, আজও আমাদের রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। নির্বাচন এলেই নেতাদের ফুলঝুরি ফোটে। তবে নির্বাচন পার হলে আর নেতাদের দেখা মেলে না। আর, রাস্তাটিও পাকা হয়না। ফলে, আমাদের দূর্ভোগ আমাদের থেকেই যায়। এই কষ্ট আমাদের পূর্ব পুরুষেরাও করে গিয়েছেন, বর্তমানে আমরাও করছি। সামান্য বৃষ্টি হলে অনেক কষ্টে ছেলে মেয়েরা স্কুল কলেজে আসাযাওয়া করে। এছাড়া গ্রাম থেকে ধান,চাল,পাট বিক্রয়ের জন্য বাজারে নিতে গেলেও অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা অনেকবার স্থানীয় চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক (ডিসি), সড়ক জনপথ বিভাগ ও এল জিইডি ববাবর অনেকবার আবেদন করেও কোন ফল পাইনি। 

আড়পাড়া সরকারী আইডিয়াল হাই স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ছাত্রী পরশ মিতা রায় জানান, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হওয়ায় আমাদের স্কুলে যেতে অনেক কষ্ট করতে হয়। অনেকদিন আমরা স্কুলেও যেতে পারিনা। বর্ষাকালে  জুতা মোজা খুলে হাতে করে প্রায় এক কিঃমিঃ রাস্তা পাড়ি দিয়ে আমাদেরকে স্কুলে যেতে হয়। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যেতে না পেরে অকালে ঝরে যাচ্ছে। 

মৎস্যজীবি সরজিত রায় বলেন, আমরা সারাদিন অনেক পরিশ্রম করে পার্শ্ববতী ফটকী নদী থেকে যা দুটো মাছ ধরি, তা বর্ষাকালে বৃষ্টিতে রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হওয়ায় বাজারে বিক্রয় করতে যেতে পারিনা। ফলে, মাছ বিক্রয় করতে না পারায় আমাদেরকে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।  রাস্তাটি পাকা হলে আমাদের সকল কষ্টের অবসান হতো। তাই, সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট আমার আকুল আবেদন রাস্তাটি পাকা করে আমাদের শতাধিক পরিবারকে দূর্ভোগের হাত থেকে পরিত্রান করার উদাত্ত আহব্বান জানাই।

কৃষক সুজন মোল্যা জানান, আমরা অনেক কষ্টে এই রাস্তায় চলাচল করি। আমরা রাস্তাটি পাকা করার জোর দাবি জানাই। 

গ্রামের হারান রায়, ধীমান বিশ্বাস, তপন বিশ্বাস, সুজিত রায়, সুলতা রায় সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, অনেকেই আমাদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু আজও আমারা কষ্টের হাত থেকে পরিত্রাণ পেলাম না। 

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার জানান, আমার দপ্তরে আবেদন করলে আমি রাস্তাটি এল জি ইডিতে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করবো। তাহলে রাস্তাটি আগামী অর্থ বছরের ভিতরেই হতে পারে। 

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪