| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেরপুরে ২০ বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ১০:৫৮:৪৮:পূর্বাহ্ন  |  ৩৪৩ বার পঠিত
শেরপুরে ২০  বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে  ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুর সদর উপজেলায় সরকারি সার বরাদ্দে অনিয়ম, কালোবাজারে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির অভিযোগে ২০ জন বিসিআইসি সার ডিলারের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়েছে।

মামলাটি করেছেন শেরপুরের সাবেক অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা এবং বর্তমানে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কর্মরত মো. আনোয়ার হোসেন। তার স্বাক্ষরিত এ মামলাটি শেরপুর সদর থানায় মামলা নম্বর-৫৯, (২২ জুলাই) ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারা অনুযায়ী দায়ের করা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের সার অধিক মুনাফার আশায় কালোবাজারে বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কৃষকরাও নির্ধারিত মূল্যে সার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ জুন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন এবং কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জাহান কৃষি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় শেরপুর শহরের নিউমার্কেট, রঘুনাথ বাজার, নতুন বাসস্ট্যান্ডসহ সদর উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী বিভিন্ন অনিয়ম ধরা পড়ে। পরে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের রেজিস্টার ও বিক্রির ক্যাশ মেমো জব্দ করা হয়। পরবর্তী তদন্তে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি বরাদ্দের ৪ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার (মূল্য প্রায় ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৪ হাজার টাকা), ৮২১ মেট্রিক টন ডিএপি সার (মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭২ লাখ ৪১ হাজার টাকা), ১৩৪ মেট্রিক টন টিএসপি সার (মূল্য প্রায় ৩৬ লাখ ১৮ হাজার টাকা) এবং অন্যান্য সার বাবদ প্রায় ৩৪ লাখ ৪০ হাজার টাকার অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের পরিবর্তে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকদের ভোগান্তিতে ফেলা হয়েছে।

এদিকে, গত ২১ জুন ২০২৬ শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচর বাজারে মেসার্স বাদশা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ছামিদুল ইসলাম ফারাজীর বিরুদ্ধে নিজস্ব খুচরা ডিলার ছাড়া বিল্লাল নামে এক মুদি দোকানির কাছে ৩০০ বস্তা ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। কৃষি বিভাগের দাবি, সার বিতরণ নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী এ ধরনের বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। এ ঘটনায় উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি তাকে সতর্কীকরণ নোটিশ প্রদান করে।

মামলায় অভিযুক্তরা হলেন, মো. রাসেদুল ইসলাম, সুফিয়া বেগম, মো. রফিকুল ইসলাম, সুবর্ণা সাহা রায়, মেসার্স মীর ট্রেডার্সের মরিয়ম আক্তার মুন্নি, মো. ফরহাদ আলী, ইলিয়াস আলী, তাপস নন্দী, কামরুন নাহার হাসেম, সিরাজুল ইসলাম, ছামিদুল ইসলাম ফারাজী, বোরহান উদ্দিন, রেজাউল করিম, মাজাহারুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন, মনিরুজ্জামান মনির, প্রশান্ত সাহা, মো. রতন মিয়া এবং মো. বাদশা মিয়া।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি শেরপুর সদর থানায় ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ২২ জুলাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কর্মরত রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত ডিলাররা সরকারি বরাদ্দের সার অধিক মুনাফার আশায় কালোবাজারে বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন। এতে সরকারের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪