রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসছে। এবার তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক এবং আলোচিত তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) যুগান্তরের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুর রহমান দাবি করেন, চাকরি, সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে তা ধামাচাপা দিতে অর্থ, পদ-পদবি ও অন্যান্য সুবিধার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একের পর এক মানববন্ধন, বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং কুশপুত্তলিকা দাহ কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
যুগান্তরকে দেওয়া বক্তব্যে ওবায়দুর রহমান বলেন, সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম আত্মীয়তার সূত্রে আলোচিত তরুণীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ থেকেই রাজধানীর পল্লবীতে ওই পরিবারের বাসায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সংসদ সদস্যদের সরকারি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি প্রায়ই সেখানে যেতেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়টি সন্দেহের জন্ম দেয়। পরে অনুসন্ধান করে তিনি জানতে পারেন, গোপন যোগাযোগের জন্য তরুণীকে আলাদা একটি মোবাইল ফোন দেওয়া হয়েছিল। ওই ফোনে ব্যবহৃত সিমটি শ্যামনগরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের নামে নিবন্ধিত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমানের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে প্রথমে তাকে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে একটি নোয়া গাড়ি, সংসদ ভবনে চাকরি, সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী (এপিএস-২) হিসেবে পরিচয় এবং তথাকথিত ‘মুতা বিয়ে’র প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি এসব প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনার সিদ্ধান্ত নেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আলোচিত তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দিতে সংসদ সদস্যের প্রভাব ব্যবহার করা হয়। ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’ নামে একাধিক প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স সংগ্রহ এবং সরকারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওবায়দুর রহমান জানান, এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করায় গত ১৪ জুলাই তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় ২১ জুলাই রাজধানীর পল্লবী থানায় গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলার দুই আসামি ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি জেনেও আমি সত্য গোপন করিনি। কোনো প্রলোভনে রাজি না হয়ে আমি যা দেখেছি, তা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছি। এখন আমার নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
এর আগে, গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয়ভাবে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তার নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগরে প্রতিবাদের মাত্রা আরও বাড়তে থাকে। মঙ্গলবার সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ শেষে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় বক্তারা তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য ঘোষণারও দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম