ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলায় মো.সাদ্দাম হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও বিচারিক আদালতের মাধ্যমে তাঁকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বুধবার ভোররাত সাড় ৪টার দিকে প্রতিবেশী পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের পাকা রাস্তা থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত গৃহবধূর নাম আরিফা খাতুন (২২)। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বৈকুণ্ঠপুর গ্রামের মো. সাদেকুল ইসলামের মেয়ে। আসামি সাদ্দাম হোসেন রুহিয়া থানার দক্ষিণ রাজাগাঁও (ফরিদপুর যুগিপুকুর) গ্রামের মো. সফিকুল ইসলামের ছেলে। নিহত আরিফার চাচা মো. আব্দুল জব্বার বাদী হয়ে রুহিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে আরিফা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁদের কোনো সন্তান হচ্ছিল না। সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্য লেগে থাকত। এছাড়া যৌতুকের দাবিসহ নানা বিষয়ে আরিফাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
এরই জের ধরে গত মঙ্গলবার দুপুর তিনটার দিকে নিজ শয়নকক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন আরিফা খাতুন। ঘটনার পরপরই বিবাদীরা বিষয়টি কাউকে না জানিয়ে ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে ভিকটিমকে পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে সাদ্দাম ও তাঁর সঙ্গীরা আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আটোয়ারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মূল রহস্য উদঘাটনের স্বার্থে আসামিকে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে আসামিকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিপোর্টার্স২৪/প্রীতিলতা