| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইভা, শিক্ষাঙ্গনে মানববন্ধন—বহুমুখী ঘটনায় সরগরম কাপাসিয়া

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ২৯, ২০২৬ ইং | ২১:২৯:২২:অপরাহ্ন  |  ১৯৩৩ বার পঠিত
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাইভা, শিক্ষাঙ্গনে মানববন্ধন—বহুমুখী ঘটনায় সরগরম কাপাসিয়া

কাপাসিয়া (গাজীপুর)প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় একদিকে সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা), অন্যদিকে শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে পৃথক মানববন্ধন ও তদন্ত কার্যক্রম—সব মিলিয়ে দিনটি ছিল ঘটনাবহুল ও আলোচনামুখর।

রোববার উপজেলা সদরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের ভাইভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। মৌখিক পরীক্ষায় তথ্য সংগ্রহের দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা, সাধারণ জ্ঞান, দায়িত্ববোধ এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার উপযোগিতা যাচাই করা হয়। নিয়োগ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ ও আশপাশের এলাকায় প্রার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

এদিকে উপজেলা সদরের ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগ তুলে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে বিদ্যালয়ের সুনাম ও প্রতিষ্ঠাতার সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য শাহিনা সুলতানা বলেন, দীর্ঘদিন শিক্ষকতা ও অভিভাবক হিসেবে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতায় তিনি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক আচরণ দেখেননি। তিনি বিষয়টিকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, প্রায় দুই দশকের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম সবুজও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে, কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে অনিয়মিত উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশে সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. লুৎফুন নেছার নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এগুলো তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা পৃথক মানববন্ধন করেন।

উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক এতে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম একজন সৎ, দক্ষ, নিরপেক্ষ ও শিক্ষকবান্ধব কর্মকর্তা। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা উল্লেখ করে তাঁরা অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান তাঁরা।

সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতিবাদ কর্মসূচি, শিক্ষককে নিয়ে তদন্ত এবং শিক্ষা প্রশাসনকে কেন্দ্র করে পাল্টা মানববন্ধন—সব মিলিয়ে রোববার কাপাসিয়া উপজেলায় ছিল ব্যস্ত ও আলোচিত একটি দিন।

উল্লেখ্য, ক্যামব্রিজ ল্যাবরেটরি স্কুল, সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘিরে উত্থাপিত অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪