| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যে কারণে থমকে যেতে পারে গ্যাস সরবরাহ

reporter
  • আপডেট টাইম: Jul ৩১, ২০২৬ ইং | ১৫:১৬:১৩:অপরাহ্ন  |  ১১৯৫ বার পঠিত
যে কারণে থমকে যেতে পারে গ্যাস সরবরাহ

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)–এর মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থসংকটে পেট্রোবাংলার বিল পরিশোধে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের গ্যাস সরবরাহ নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সময়মতো এলএনজির মূল্য পরিশোধ করা না গেলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনীহা দেখাতে পারেন, যার প্রভাব পড়তে পারে শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানার গ্যাস সরবরাহে।

এ পরিস্থিতিতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পেট্রোবাংলার অনুকূলে জরুরি ভিত্তিতে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকি বরাদ্দের সুপারিশ করেছে অর্থ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই অর্থ চলতি জুলাই মাসের শেষ ১৫ দিনের ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন হবে।

নথিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে বিদেশি এলএনজি সরবরাহকারীরা ভবিষ্যতে নতুন কার্গো পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারেন, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে এলএনজি আমদানির অর্থায়ন দ্রুত নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহ উৎস খোঁজার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এতে বাজেট ঘাটতি আরও বাড়বে এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হবে।

তিনি বলেন, আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনা সম্ভব হলেও বর্তমানে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে অতিরিক্ত ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হয়েছে। এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার মতো ভর্তুকি প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থ বিভাগের বিশেষ সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সরবরাহ করা এলএনজির বিপরীতে পেট্রোবাংলার প্রাক্কলিত আর্থিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯৬ কোটি টাকা।

যদিও চলতি অর্থবছরে এ খাতে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছিল এবং এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে, তবুও বর্তমান ব্যয় মেটাতে অবশিষ্ট অর্থ যথেষ্ট নয়।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মে ও জুন মাসে নির্ধারিত কার্গোর বাইরে অতিরিক্ত পাঁচটি এলএনজি কার্গো আমদানি করতে হয়েছে। জুলাইয়ের প্রথম ১৫ দিনেও আরও পাঁচটি কার্গো দেশে এসেছে। এসব কার্গোর মূল্য নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে গ্যাসের মূল্য সমন্বয় করা হলেও প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায় হয়নি। বিক্রয় কাঠামোর পরিবর্তন ও রাজস্ব ঘাটতির কারণে জুলাইয়ের প্রথমার্ধেই প্রায় ১৯০ কোটি টাকা কম আয় হয়েছে। ফলে ওই সময়ের পাঁচটি এলএনজি কার্গোর বিপরীতে আর্থিক ঘাটতি বেড়ে ১ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় একটি এলএনজি কার্গো আমদানিতে ব্যয় হতো ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। বর্তমানে একই পরিমাণ এলএনজি স্পট মার্কেট থেকে কিনতে ৬৫০ থেকে ৯৫০ কোটি টাকা, কখনো এরও বেশি ব্যয় হচ্ছে।

তার মতে, সময়মতো বিল পরিশোধ করা সম্ভব না হলে বিদেশি সরবরাহকারীরা নতুন কার্গো পাঠাতে অনাগ্রহী হতে পারেন। এতে শিল্প উৎপাদন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানায় গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, আন্তর্জাতিক সংকটের কারণে স্বল্পমেয়াদে সরকারকে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতেই হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে শুধু ভর্তুকির ওপর নির্ভর করলে সমস্যার সমাধান হবে না।

তার মতে, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে বড় বিনিয়োগ, গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাসের অপচয় ও সিস্টেম লস কমিয়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ধীরে ধীরে কমানোর সুপারিশ করে আসছে। সংস্থাটির মতে, বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে বাজেটের ওপর চাপ কমানো এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার করা সম্ভব হবে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪