ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: যুদ্ধে বিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ছয় মাস মেয়াদি ২.৪৫ বিলিয়ন ডলারের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনায় মোট ৬৬টি প্রকল্প রয়েছে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ, ধ্বংসস্তূপ অপসারণ, হাসপাতাল মেরামত, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং একটি বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের জন্য অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে ছয় মাসে মোট ২.৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধের কারণে প্রায় ৩৫.২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। পুরো গাজা পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭১.৪ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাজার সীমান্ত পারাপারের পথ, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা মেরামতের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ২৫ হাজার বহনযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ কিট স্থাপন এবং পুনর্গঠনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর নিচে থাকা সুড়ঙ্গ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে জানিয়েছিল, প্রস্তাবিত গাজা শান্তিরক্ষী বাহিনীর জন্য ২০৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এটি গাজা পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের স্থগিত থাকা পরিকল্পনার প্রথম বড় অর্থায়ন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও তদারকির জন্য ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেন। তবে জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই উদ্যোগের অগ্রগতি থমকে আছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস, উভয় পক্ষই চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু শর্ত পূরণ করেনি।
এদিকে বোর্ড অব পিস ও ফিলিস্তিনি সরকার এখন পর্যন্ত প্রস্তাবিত ২.৪৫ বিলিয়ন ডলারের পুরো অর্থ সংগ্রহ করতে পারেনি।
তবে তারা আশা করছে, রাজনৈতিক বাধাগুলো দূর হলে বিভিন্ন দাতা দেশ পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে এগিয়ে আসবে।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ