নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রসুলপুর গ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ওঠা জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ সম্মেলন করেছে মো. মোবায়দুল চৌধুরীর পরিবার। শুক্রবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোছা. জোবাইদা চৌধুরী।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গত ২৯ জুলাই মৃত সিরাজুল চৌধুরীর কন্যারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মো. মোবায়দুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে ১৮ বিঘা জমি ও একটি পুকুর দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে পরিবারটি।
তাদের দাবি, আলোচিত জমি ও পুকুর তাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং মো. মোবায়দুল চৌধুরী বৈধ মালিকানা ও আইনগত অধিকার অনুযায়ী সম্পত্তি ভোগদখল করছেন। মালিকানাধীন পুকুরটি বৈধ প্রক্রিয়ায় মাছচাষি মো. হাসান আলীর কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, পুকুরটি লিজ দেওয়ার আগে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়েছিল। ওই মীমাংসায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতেই বিরোধ মীমাংসার পর পুকুরটি লিজ দেওয়া হয়।
ভীমপুর ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মো. হাফিজুর রহমান রিপনের নাম উল্লেখ করে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাকে জড়িয়ে পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাদের দাবি, তিনি কোনোভাবেই পুকুর লিজ, জবরদখল বা সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত নন; বরং স্থানীয় চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা রেখেছিলেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে মো. মোবায়দুল চৌধুরীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন এবং মিথ্যা অভিযোগে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, একজন বিএনপি নেতার নাম জড়িয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়া অনভিপ্রেত এবং এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে মোবায়দুল চৌধুরীর পরিবার জানায়, তারা আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল। জমি-সংক্রান্ত যেকোনো বিরোধ আদালত ও প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে তারা মনে করেন।
এ সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গণমাধ্যমের প্রতি দলিল-প্রমাণ ও আইনগত অবস্থান যাচাই করে নিরপেক্ষভাবে বিষয়টি উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অবসান ঘটবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম