নেত্রকোনা প্রতিনিধি: জনপ্রিয় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (রিপন ভিডিও) ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ানোর অভিযোগে আটক করেছে এলাকাবাসী। নেত্রকোনা সদর উপজেলার নন্দুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশে তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং গ্রাম ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন আগে রিপন মিয়া পাশের নন্দুরা গ্রামে জমি কিনে বাড়ি নির্মাণ করেন এবং পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ, রিপন মিয়া আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে বাড়ির উঠানে রান্নার সময় কৌশলে বাড়ির পেছনে ডেকে নিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়। এ সময় স্থানীয় দুজন ঘটনাটি দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান রিপন মিয়া।
পরে ঘটনাটি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে এক সালিশ-বৈঠক বসে। ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিআরডিবির সভাপতি ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। সালিশে অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সাত দিনের মধ্যে তা পরিশোধের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, মেয়েটি অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের। টাকার লোভ দেখিয়ে রিপন তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ঘটনাটি জোরপূর্বক ধর্ষণ নয় বলেই আমরা জেনেছি। পরিবারের মামলা চালানোর সামর্থ্যও নেই, তাই এলাকাবাসী মিলে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সালিশের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া উপস্থিত লোকজনের সামনে বলছেন, ‘আমার দোষ থাকলেও আছে, না থাকলেও আমি সবার সিদ্ধান্ত মেনে নেব।’ ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
এ বিষয়ে নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও স্ত্রী-সন্তানের পরিচয় গোপন রাখা এবং বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দেখাশোনা না করার অভিযোগ উঠেছিল রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে। সে সময় বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নিজের মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন রিপন মিয়া।
তবে সালিশ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রিপন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব