| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গণঅভ্যুত্থানে নিহত জাবিরের শোকে এখনো কাতর বাবা-মা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ০৫, ২০২৬ ইং | ০৫:২৫:১৪:পূর্বাহ্ন  |  ৮০৫৩৮৪ বার পঠিত
গণঅভ্যুত্থানে নিহত জাবিরের শোকে এখনো কাতর বাবা-মা

বেনাপোল প্রতিনিধি: যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামের কৃষক নওশের আলী ও শিরিনা আক্তার দম্পতির একমাত্র ছেলে ইমতিয়াজ আহম্মেদ জাবির। গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার এক বছর পরও ছেলের স্মৃতি আঁকড়ে দিন কাটছে তাদের। পুরোনো জামা-কাপড়, বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখেই যেন ফিরে পান হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মৃতি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ বিভাগের শিক্ষার্থী জাবির শুরু থেকেই আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর রামপুরা এলাকায় আন্দোলনের সময় তিনি টিয়ারশেল ও রাবার বুলেটে আহত হন। পরে ১৯ জুলাই আবারও আন্দোলনে অংশ নিলে বনশ্রী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন বলে পরিবারের দাবি।

সহপাঠীরা তাকে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট এবং সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ জুলাই তার মৃত্যু হয়।

জাবিরের বাবা নওশের আলী অভিযোগ করেন, ছেলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনার পর স্বাভাবিকভাবে দাফনের সুযোগ পাননি তারা। পরিবারের ইচ্ছা ছিল পরদিন সকালে জানাজা শেষে দাফন করার। তবে সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের চাপের কারণে রাতেই দাফন করতে বাধ্য হন বলে তিনি দাবি করেন। এ কারণে শেষবারের মতো ছেলের মরদেহ বাড়ির ভেতরে নিতে না পারার আক্ষেপ আজও তাড়া করে বেড়ায় পরিবারকে।

তিনি আরও দাবি করেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ নেওয়ার সময়ও পুলিশ তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে এবং দ্রুত দাফনের জন্য চাপ দেয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নওশের আলী বলেন, “ছেলে হত্যার এক বছর পার হলেও এখনো বিচার পাইনি। শেখ হাসিনাসহ ৯৭ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। আমার একটাই চাওয়া—যারা মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার দেখতে চাই।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, জাবিরের পরিবার শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি পেয়েছে। এ পর্যন্ত জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৫ লাখ, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ২ লাখ, বিএনপির পক্ষ থেকে ১ লাখ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নওশের আলী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দুই সন্তানকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল তার। জাবিরের পড়াশোনার খরচ চালাতে তিনি কৃষিজমি বিক্রি করেন এবং বাড়ির একটি মুরগির খামারও বন্ধ করে দেন।

যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন, “জুলাই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জাবির নিহত হন। তার পরিবারের সঙ্গে আমাদের দলের নেতারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।”

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪