কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে খুলনা রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, মাদক সেবন, বিক্রি কিংবা এর পেছনে মদদ দেওয়ার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি মাদক সেবন বা ব্যবসার সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হবে।
রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কুষ্টিয়ার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের বিষয় তুলে ধরেন।
মাদক প্রসঙ্গে ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মাদক নির্মূলে পুলিশ কঠোরভাবে কাজ করবে। শুধু মাদকসেবী নয়, মাদক ব্যবসায়ী, মদদদাতা ও এর সঙ্গে জড়িতদের মূল পর্যন্ত চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পুলিশ সদস্য মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে পুলিশ সদস্যদের ডোপ টেস্ট করা হবে।”
তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে মাদকের বিস্তার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতাও প্রয়োজন।
পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ডিআইজি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ অন্যান্য অপরাধ বন্ধে নৌ পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধেও পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশনার কথা জানান ডিআইজি। তিনি বলেন, নারীরা যাতে সর্বক্ষেত্রে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারেন, সে জন্য পুলিশকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
৫ আগস্টের পর পুলিশের মধ্যে কোনো ধরনের জড়তা বা কর্মস্পৃহায় ঘাটতি রয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পুলিশের মধ্যে বর্তমানে কোনো জড়তা নেই। পুলিশ স্বাভাবিকভাবেই দায়িত্ব পালন করছে। এরই মধ্যে বর্তমান পুলিশ একটি জাতীয় নির্বাচন, দুটি ঈদ ও একটি পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করেছে। পুলিশের মধ্যে জড়তা থাকলে এসব আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হতো না।
মতবিনিময় সভায় কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ডিআইজি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব