রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি ফেরেনি। মাছ ও মাংসের দাম প্রায় আগের মতোই রয়েছে। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় ডজনপ্রতি ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা। অন্যদিকে, মাছের দাম নিয়ে বাজারে দেখা যাচ্ছে ওঠানামা। কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা কমলেও পরদিনই আবার বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা।
মাছের বাজারে অবশ্য তেমন বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। কোনো কোনো মাছের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে, আবার কিছু মাছের দাম কমেছে ১০ থেকে ২০ টাকা। ফলে সামগ্রিকভাবে মাছের বাজারকে প্রায় স্থিতিশীলই বলছেন বিক্রেতারা। অন্যদিকে, প্রতি কেজি গরুর মাংস আগের মতোই ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা ১৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, দিনের ব্যবধানে দাম কিছুটা ওঠানামা করছে।
সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে অবশ্য কোনো পরিবর্তন নেই। বাজারে সোনালি মুরগি প্রতি কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, পুকুরে চাষ করা পাঙাশ মাছ প্রতি কেজি ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে চিংড়ির দাম ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই ওজনভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি।
এ ছাড়া ভেটকি প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কই ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পোয়া মাছের কেজি ২৬০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে, রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছের মতো কিছু মাছ কিনতে গেলে ক্রেতাদের কেজিপ্রতি হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।
পাঙাশ মাছ কিনতে আসা কামাল বলেন, আগে পাঙাশ ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। এখন ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। আর তেলাপিয়া তো কয়েক মাসের ব্যবধানে ৬০ টাকা বেড়েছে। এখন তেলাপিয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রায়ের বাজারের মুরগি বিক্রেতা সবুজ আহমেদ বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে মুরগির দাম কিছুটা কম ছিল। তবে শুক্রবার দাম সামান্য বেড়েছে। তারপরও ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন তিনি। গত সপ্তাহে একই মুরগির দাম ছিল ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে এটি ৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
রায়ের বাজারের মাছ বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, আজ মাছের দাম আগের মতোই আছে। কিছু মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। আবার কোনো কোনো মাছের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। সকালে মাছের এক দাম থাকে, আবার বিকেলে আরেক দাম।
সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছ ও গরুর মাংসের দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। ফলে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিকভাবে ক্রেতাদের জন্য স্বস্তি এখনো পুরোপুরি ফেরেনি।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম