| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ১৪, ২০২৬ ইং | ২১:২০:৩০:অপরাহ্ন  |  ১৪০ বার পঠিত
গঙ্গা চুক্তি নবায়ন: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা

রিপোর্টার্স ডেস্ক: ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর পানি বণ্টন ইস্যু আবারও সামনে এসেছে। ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে। তিন দশকের এই চুক্তি নবায়ন এখন শুধু পানি বণ্টনের বিষয় নয়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের পারস্পরিক আস্থা, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া, কৃষি ও জনসংখ্যার চাপ এবং নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় পুরোনো কাঠামোর চেয়ে আরও বিস্তৃত ও আধুনিক একটি চুক্তি প্রয়োজন।

১৯৯৬ সালের গঙ্গা চুক্তির প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের আলোচনার পর ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩০ বছর।

ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে পানি প্রত্যাহার নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি করা হয়। এতে শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার পানি ভাগাভাগির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কায় পানির প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পানি বণ্টনের ব্যবস্থা রয়েছে।

চুক্তি নবায়ন হলে বাংলাদেশের কী সুবিধা?

বাংলাদেশ গঙ্গার নিম্ন অববাহিকার দেশ। শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না পেলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, নৌ চলাচল ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন চুক্তিতে যদি বাংলাদেশের ন্যায্য পানির হিস্যা নিশ্চিত হয়, তাহলে কৃষি উৎপাদন স্থিতিশীল থাকবে, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে এবং সুন্দরবনসহ পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা সহজ হবে।

এ ছাড়া গঙ্গা চুক্তি নবায়ন হলে এটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগের মতো বড় ইস্যুগুলোতেও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ চাইছে শুধু গঙ্গা নয়, অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনায় একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করতে। বিশেষ করে তিস্তা, ফেনীসহ অন্যান্য নদী নিয়েও আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

চুক্তি নবায়ন না হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে-

চুক্তি শেষ হয়ে গেলে পানি ভাগাভাগির বিষয়ে কোনো নতুন সমঝোতা না থাকলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ সমস্যায় পড়তে পারে। বিশেষ করে রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও পাবনা অঞ্চলের কৃষি, গড়াই নদীর প্রবাহ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ চাপের মুখে পড়তে পারে।

এ ছাড়া পানি ইস্যু বাংলাদেশে অত্যন্ত আবেগ ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। চুক্তি নবায়ন না হলে দুই দেশের সম্পর্কে রাজনৈতিক ও জনগণ পর্যায়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা বড় চ্যালেঞ্জ। গঙ্গা ইস্যুতে অগ্রগতি না হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য নদী নিয়েও সমঝোতা কঠিন হতে পারে।

কীভাবে সম্ভব চুক্তি নবায়ন-

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন চুক্তিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। ১৯৯৬ সালের চুক্তি ছিল মূলত পানি বণ্টনকেন্দ্রিক। নতুন চুক্তিতে নদীর প্রবাহ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদী খনন ও তথ্য আদান-প্রদানের মতো বিষয় যুক্ত হতে পারে।

এ ছাড়া নদীর পানির প্রবাহ আগের মতো নেই। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণের বদলে বাস্তব সময়ের তথ্য, বৃষ্টিপাত ও জলবায়ু পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে পানি ভাগাভাগির ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দুই দেশের সরকারকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করে সমঝোতায় আসতে হবে। কারণ ভারতের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের পানির চাহিদা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মহলেও ফারাক্কা চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে একটি সূত্র জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরেই চুক্তি করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে উভয় পক্ষ।

জেআরসি বৈঠকে কী হলো

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত যৌথ নদী কমিশনের কাঠামোর মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। চলতি বছর মে মাসে ভারতের কলকাতায় জেআরসির আলোচনায় মূলত ২০২৬ সালের পর নতুন চুক্তির কাঠামো, পানির প্রবাহের তথ্য, দুই দেশের কারিগরি বিষয় ও অন্যান্য অভিন্ন নদী নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

দুই পক্ষই আলোচনার দরজা খোলা রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য রাজনৈতিক পর্যায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ভারত কি চুক্তি করতে আগ্রহী

দিল্লির অবস্থান হলো-গঙ্গার পানি ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা। তবে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ পানির চাহিদা, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের উদ্বেগও আলোচনায় থাকবে। ভারত সম্ভবত এমন একটি চুক্তি চাইবে, যেখানে দুই দেশের স্বার্থের ভারসাম্য থাকবে, রাজ্যগুলোর উদ্বেগ বিবেচনায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদি হলেও নমনীয় কাঠামো থাকবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইবে নির্ভরযোগ্য পানির নিশ্চয়তা, ন্যায্য হিস্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে প্রবাহ নিশ্চিত করার কার্যকর ব্যবস্থা।

নতুন কূটনৈতিক পরীক্ষা কেন

গঙ্গা চুক্তি নবায়ন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ভারতে আশ্রিত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার ইস্যুতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে টানাপোড়েন চলে আসছে। আর দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অভিন্ন নদীর পানি। এই পরিস্থিতিতে গঙ্গা চুক্তি শুধু একটি পানি চুক্তি নয়, এটি হবে দুই দেশের রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠনের একটি পরীক্ষা।

গঙ্গা নদী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিরোধের পাশাপাশি সহযোগিতারও প্রতীক। ১৯৯৬ সালের চুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক ছিল। ২০২৬ সালের নবায়ন সেই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে, যদি দুই দেশ পানি ভাগাভাগিকে শুধু জাতীয় স্বার্থের সংঘাত হিসেবে না দেখে, বরং অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।

গঙ্গা চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ঢাকা ও দিল্লি আগামী দিনে আস্থার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে কতটা সক্ষম। এটি হবে দুই দেশের কূটনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা।

ভারতীয় হাইকমিশনার যা বলেন

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলে দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, বিশেষ করে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নে অগ্রগতি আসতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো জটিলতা নেই, যা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের সময় ঘনিয়ে আসার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না এমন কোনো সমস্যা নেই।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। তিনি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে পানিবিশেষজ্ঞ ড. আইনুন নিশাত বলেন, নতুন করে একটি নিরাপদ ও কার্যকর চুক্তি করা গেলে তা দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক হবে। তবে তা সম্ভব না হলে বাংলাদেশ পানিসংকটে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি কোনো একতরফা উদ্যোগে সম্ভব নয়। এর জন্য উভয় দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

ড. আইনুন নিশাত অববাহিকাভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, গঙ্গা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময়, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং যৌথ উদ্যোগ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় স্বার্থে পানি ইস্যুতে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পানি। আশা করা যায়, পারস্পরিক আলোচনা, সহযোগিতা ও যৌক্তিক আচরণের ভিত্তিতে গঙ্গার পানি বণ্টন সমস্যার একটি টেকসই সমাধান হবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল ইসলাম গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে বলেন, বে-সিনে যে কয়টি দেশ আছে, সবাই মিলে যদি অববাহিকাভিত্তিক পানি বণ্টন করা হয়, তাহলে অনেক বেশি সুফল পাওয়া যাবে। এটা একটু লং-টার্ম হলে ভালো হয়। যেমন আগে ৩০ বছরের জন্য করা হয়েছে। লং-টার্ম হলে অনেক প্রকল্প ও ব্যবস্থাপনা এর আলোকে করা যায়, যখন নিশ্চয়তাটা অনেক লম্বা সময়ের থাকে।

তিনি বলেন, তবে পাঁচ বছর পর পর দেখা যেতে পারে নদীর স্বাস্থ্য কেমন, নদীর প্রবাহের গতিপথ কেমন আছে। সেটা হয়তো একটি কারিগরি কমিটি পাঁচ বছর পর পর মূল্যায়ন করতে পারে। কিন্তু লং-টার্ম চুক্তি হলেই আসলে সবকিছু অনেকটা বেশি সাসটেইনেবল করা সম্ভব।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য

ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, নয়াদিল্লি চুক্তিটির গুরুত্ব এবং উভয় দেশের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে আলোচনার সব বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে ভারত গঙ্গার পানির গুরুত্ব এবং দুই দেশের মানুষের জন্য এ চুক্তির তাৎপর্য সম্পর্কে অবগত। পারস্পরিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রেখে অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে ভারত সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গঠিত দল ও সংশ্লিষ্ট কমিটি ভারতের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

আলোচনা নিয়ে আশাবাদের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলমান আলোচনার বিস্তারিত এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে বাংলাদেশ আশাবাদী।

তিনি আরও জানান, চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে এখনো প্রায় ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর নবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতেই হবে।

শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা আশা করি, ভারত গঙ্গা চুক্তির গুরুত্ব উপলব্ধি করবে এবং সে অনুযায়ী ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসবে।

পানিসম্পদমন্ত্রী যা বলছেন

পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চলমান গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকার জোরালোভাবে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং নতুন চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যৌথ নদী কমিশন এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। 

বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানিপ্রবাহ ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম হলে দুই দেশ সমানভাবে পানি ভাগ করে নেয়। প্রবাহ ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি হলে ভারত ৪০ হাজার কিউসেক পায় এবং বাকি অংশ বাংলাদেশের প্রাপ্য হয়।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪