ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নাসরিন সুলতানা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে ফরিদপুর জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান।
নিহত নাসরিন সুলতানা ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরীকান্দা সদরদী এলাকার মিরাজ শেখের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ আগস্ট প্রচণ্ড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাসরিন। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার জ্বর বেড়ে যায় এবং শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
নাসরিনের স্বামী মিরাজ শেখ জানান, তার স্ত্রী প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হলে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শে কয়েকটি পরীক্ষা করা হলেও ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বেসরকারি চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো হয়। পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত তাকে ফরিদপুর জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নাসরিন সুলতানার মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ভাঙ্গায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এটিই প্রথম কোনো রোগীর মৃত্যুর ঘটনা বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। সচেতন মহল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব