| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মাগুরার মাটিতে ফলেছে জাপানের জাতীয় ফল ‘পার্সিমন’

reporter
  • আপডেট টাইম: অগাস্ট ২২, ২০২৬ ইং | ০৬:৪৩:০২:পূর্বাহ্ন  |  ২৯৩ বার পঠিত
মাগুরার মাটিতে ফলেছে জাপানের জাতীয় ফল ‘পার্সিমন’

মাগুরা প্রতিনিধি: বিদেশি ফল-ফসলের চাষে বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার সক্ষমতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মাগুরা। প্রথমবারের মতো মাগুরার মাটিতে সফলভাবে ফলেছে জাপানের জাতীয় ফল ‘পার্সিমন’। মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে সুদৃশ্য এ ফল। এর সফল ফলন স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ পাতার আড়ালে অসংখ্য পার্সিমন ফল থোকায় থোকায় ঝুলছে। কাঁচা অবস্থায় ফলের রং সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা সোনালি-হলুদ এবং পাকার পর গাঢ় কমলা রং ধারণ করে। দেখতে অনেকটা দেশীয় গাব বা টমেটোর মতো হলেও স্বাদ ও পুষ্টিগুণে এটি বেশ আলাদা।

হর্টিকালচার সেন্টার সূত্রে জানা যায়, সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাসে পার্সিমন গাছে ফুল আসে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে ফল পরিপক্ব হয়। প্রতিটি ফলের ওজন ১০০ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।

২০২১ সালে নাটোরের একটি প্রকল্প থেকে পার্সিমনের মাত্র একটি চারা সংগ্রহ করে মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারে রোপণ করা হয়। চার বছর পরিচর্যার পর চলতি বছর প্রথমবারের মতো গাছটিতে ফল আসে। ‘হার-মোফ্রোডাইট’ জাতের ওই মাতৃগাছ থেকে এবার প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ কেজি ফলন পাওয়া গেছে।

বর্তমানে দেশের খোলা বাজারে প্রতি কেজি পার্সিমন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে হর্টিকালচার সেন্টার থেকে এবার ফল বিক্রি করা হচ্ছে না। বরং উৎপাদিত ফলের বীজ থেকে মানসম্মত চারা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে স্থানীয়ভাবে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা যায়।

পুষ্টিবিদদের মতে, পার্সিমনে ভিটামিন এ, বি ও সি ছাড়াও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও কপার রয়েছে। কম ক্যালরিযুক্ত এ ফলে থাকা পেকটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে উচ্চমূল্যের এ ফল ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসতে পারে।

মাগুরা হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদ কৃষিবিদ মো. আব্দুস সামাদ বলেন, মাগুরার মাটি ও আবহাওয়া পার্সিমন চাষের জন্য উপযোগী। চলতি বছর ফলন আশানুরূপ হওয়ায় তারা আশাবাদী। স্থানীয়ভাবে পার্সিমনের চারা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মানসম্মত চারা উৎপাদন সফল হলে পর্যায়ক্রমে কৃষকদের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে এ ফলের চাষ সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, উচ্চমূল্যের ও লাভজনক পার্সিমনের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪