কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সড়ক নির্মাণে অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে যাওয়া এক সাংবাদিকের ওপর হামলার মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের এলংগী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন - কুষ্টিয়া ৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের চাচা আমিরুল ইসলাম (৫৫) ও কথিত পিএস মারুফ হোসেন (৩৫)। দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) জামাল উদ্দিন।
এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে পৌরসভার কালীবাড়ী মন্দিরের সামনে সড়কের অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গেলে নির্মম হামলার শিকার হন বেসরকারি বাংলা টিভির কুমারখালী - খোকসা প্রতিনিধি মাহবুবুল আহসান উল্লাস। এ ঘটনায় সন্ধায় কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের ছেলে শোভন হোসেন ও এমপির চাচা আমিরুল ইসলাম এবং চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, কথিত পিএস মারুফ হোসেনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে কুমারখালী থানায় হত্যা চেষ্টা আইনে তিনি মামলা করেন।
এছাড়াও মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ২০ - ২৫ জনকে। অন্যান্য আসামিরা হলেন - শিবরামপুরের শরিফুলের ছেলে রুহুল আমিন (২২), দুর্গাপুরের আলতাফের ছেলে লিটন হোসেন (৪৫), পাথরবাড়িয়ার মো. কাফির ছেলে মো. আল আমিন (২৭), এলংগী এলাকার শফিকুলের ছেলে সোহান (২৬), জিয়ারতের ছেলে আল আমিন (২৬), বাদশার ছেলে সাব্বির (২৮), ওবাইদুলের ছেলে সাদিক (২৬)। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাংবাদিক উল্লাস। তাঁর মুখে ও মাথায় সাদা ব্যান্ডেজ বাধা। চোখ - ফোলা। পিঠে একাধিক স্থানে আঘাতের ক্ষত।
এ সময় সাংবাদিক মাহাবুব আহসান উল্লাস বলেন, নানা অভিযোগে পৌর কর্তৃপক্ষ কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রভাব খাটিয়ে জামায়াতের এমপি ছেলে, ভাই ও স্বজনরা জোরপূর্বক সড়ক নির্মাণ কাজ চলমান রেখেছেন। কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারসহ ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। সেসব তথ্য চিত্র সংগ্রহে গেলে এমপির স্বজনরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম ও আহত করেছে। সুষ্ঠ বিচারের আশায় থানায় মামলা করেছি।
আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।'সাংবাদিকের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু মনি জুবায়েদ রিপন বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা যত ক্ষমতাশালীই হোক না কেন? তাদের আইনের আওয়াতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। না হলে কঠোর আন্দোলন করা হবে।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় হত্যা চেষ্টা আইনে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম