| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কৃষকের থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ইং | ২২:১৭:২১:অপরাহ্ন  |  ৪৫৫ বার পঠিত
কৃষকের থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করবে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রেখে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে। কৃষক যাতে সহজে ও বিনা হয়রানিতে সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারে, সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য প্রাথমিকভাবে তিনটি জেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ আয়োজিত জেলার খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। কৃষকদের ব্যাংক হিসাব খোলা কিংবা অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সমস্যায় পড়তে হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ধান সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরো সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিকাশের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে কৃষকদের অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা যেন তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্য মূল্য পান, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং জনগণের ঘরে সময়মতো নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে। সরকার সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে। খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হলো সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যবোধের সঙ্গে কাজ করে সরকারের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরে যেসব সমস্যা জমে উঠেছে, সেগুলোর সমাধানে কিছুটা সময় প্রয়োজন। কর্মকর্তাদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে সব সমস্যা একসঙ্গে সমাধান করা সম্ভব নয়। জনগণের স্বার্থে কোন সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য, তা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রত্যেককে সততা ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যে লক্ষ্য নিয়ে সরকার পরিচালনা করছেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব সমস্যার বিষয়ে তাদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

খাদ্যশস্যের গুণগত মান বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাল ও গমের মানসম্মত মজুদ গড়ে তোলা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা যেকোনো সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুদ থাকতে হবে। বর্তমানে মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক থাকায় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবংআমদানির মাধ্যমে আসা চালসহ সব খাদ্যশস্য গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত গুণগত মান বজায় রাখার আহবান জানান। কোনো চাল বা খাদ্যশস্য নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ না করলে তা গ্রহণ করা যাবে না। খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যথাযথভাবে পালন করতে হবে, যাতে পরবর্তী সময়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগের সৃষ্টি না হয়।

খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিতরণ করা খাদ্যশস্যের প্যাকেটে নির্ধারিত বিতরণ সংক্রান্ত সিল অবশ্যই দিতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা করা যাবে না। বিতরণের সঠিক প্রমাণ থাকলে খাদ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বের সীমা নির্ধারণ এবং বিতরণ পরবর্তী অনিয়মের ক্ষেত্রে দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, খাদ্য বিভাগের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করতে হয় এবং বিতরণ কার্যক্রমের প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। সরকারি খাদ্যশস্য যাতে নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খাদ্যে ভেজাল ও ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বিশেষ করে শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যপণ্য, দুধ, জুস ও অন্যান্য ভোগ্যপণ্যে ক্ষতিকর উপাদানের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয় বরং এটি মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।এ বিষয়ে নজরদারি আরো জোরদার করতে হবে। বর্তমানে খাদ্য পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকলেও ভবিষ্যতে দেশের ৬৪ জেলায় খাদ্য পরীক্ষার জন্য যানবাহন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে খাদ্যপণ্যের নমুনা পরীক্ষা করা এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার কার্যক্রম আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা জনগণের প্রকৃত চাহিদা ও সমস্যাগুলো সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝতে পারেন। তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও কার্যকর উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের কোনো ভালো পরামর্শ থাকলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান। মন্ত্রণালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোনো দূরত্ব থাকা উচিত নয়। সবাইকে সহকর্মী হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তাদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেসব সমস্যা মন্ত্রণালয়ের একক উদ্যোগে সমাধান করা সম্ভব হবে না, সেগুলো প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কর্মকর্তাদের কর্মপরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধার উন্নয়ন হলে তাঁরা আরো মনোযোগ ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঃ জসীম উদ্দিন খান,খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ জামাল হোসেন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। সভায় জেলার বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ মতবিনিময় সভা শেষে খাদ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম নগরীর জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪