| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কুষ্টিয়া একদিন ‘লালন নগরী’তে পরিণত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ইং | ২০:৪১:২৪:অপরাহ্ন  |  ১৭৯ বার পঠিত
কুষ্টিয়া একদিন ‘লালন নগরী’তে পরিণত হবে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া একদিন ‘লালন নগরী’তে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলে পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটবে। গড়াই-মধুমতী নদীতে আবারও নৌকা চলবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন আখড়াবাড়িতে বাউল সাধক ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় কুষ্টিয়া লালন একাডেমি এ উৎসবের আয়োজন করেছে। উৎসব উপলক্ষে ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছেন দেশ-বিদেশের সাধু-গুরু, বাউল ও লালনভক্তরা। তাদের পদচারণায় আখড়াবাড়ি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি লালনের দর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বিশ্বে নানা ধরনের পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘাত তৈরি হচ্ছে। মানুষ সাদা-কালো, মুসলিম-হিন্দু কিংবা ইহুদি-মুসলিম পরিচয়ের ভিত্তিতে বিভেদ ও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে লালনের দর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাসঙ্গিক।

লালনের মানবতাবাদী দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিচয়ের বিভাজন পেরিয়ে মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখার শিক্ষা লালনের দর্শনের অন্যতম দিক।

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’—লালন সাঁইয়ের এই বাণী ধারণ করে মানবতার শিক্ষা ও সত্যের সন্ধানে ভক্তরা ছুটে আসছেন আখড়াবাড়িতে।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মো. তৌহিদ বিন-হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. রশিদুল নবী।

প্রচলিত প্রথা ও সাধুরীতিতে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী এ উৎসব। শনিবার সন্ধ্যায় বাল্যসেবার মধ্য দিয়ে বাউল-ভক্তদের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। রোববার সকালে রাখালসেবা এবং দুপুরে পুণ্যসেবা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া সাধু-গুরুদের মধ্যে ভক্তি, ভাব ও দর্শন বিনিময়ের আয়োজন রয়েছে।

উৎসব শুরুর প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকেই লালন আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেন বাউল সাধকরা। আখড়াবাড়ির বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে তারা গেয়ে চলেছেন লালন সাঁইয়ের আধ্যাত্মিক বাণী ও দর্শনভিত্তিক গান। সব মিলিয়ে উৎসব ঘিরে কুষ্টিয়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

শনিবার শুরু হওয়া এ আয়োজন চলবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রায় ৮০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় লালন মঞ্চে শুরু হয় সাংস্কৃতিক পর্ব। এতে ক্লোজআপ ওয়ান তারকা ও লালনসংগীতশিল্পী বিউটিসহ বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা সংগীত পরিবেশন করেন। দ্বিতীয় দিন লালনসংগীতশিল্পী সালমা ও লালন একাডেমির স্থানীয় শিল্পীদের সংগীত পরিবেশনের কথা রয়েছে।

এদিকে, উৎসবে অতিরিক্ত লোকসমাগমের কারণে নারী ও শিশুদের আখড়াবাড়িতে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা। ভিড়ের মধ্যে নিরাপত্তা ও ভোগান্তি এড়াতে তারা এ পরামর্শ দেন।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪