| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এবার শীত হবে উষ্ণ, কমবে ব্যাপ্তি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ইং | ১১:১৬:২৩:পূর্বাহ্ন  |  ৬১ বার পঠিত
এবার শীত হবে উষ্ণ, কমবে ব্যাপ্তি

স্টাফ রিপোর্টার: দেশ থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নেওয়ার পর আবহাওয়ায় শুরু হয়েছে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব। গ্রামাঞ্চলের কোথাও কোথাও ভোরে দেখা যাচ্ছে কুয়াশা। রাতের শেষ ভাগে ও সকালে বাতাসে অনুভূত হচ্ছে শীতলতা। মাঠঘাট, ফসলের জমি ও জলাশয়ের ওপর হালকা কুয়াশার চাদর জানান দিচ্ছে শীতের আগমনের কথা।

যদিও দিনের বেলায় রোদের তেজ এখনো রয়েছে, তবে সন্ধ্যা নামার পর আবহাওয়ার অনুভূতিতে আসছে পরিবর্তন। সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে ধীরে ধীরে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে। তবে এবারের শীত হবে উষ্ণ, কমবে শীতকালের ব্যাপ্তিও।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন মূলত বর্ষা থেকে শীতের দিকে যাওয়ার মধ্যবর্তী সময়ের বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশে সাধারণত অক্টোবর মাসে বর্ষার প্রভাব কমতে শুরু করে এবং মৌসুমি বায়ু বিদায় নেয়। এ সময় বৃষ্টির প্রবণতা হ্রাস পায়, আকাশ তুলনামূলক পরিষ্কার থাকে এবং রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে দেশের সব অঞ্চলে একই সময়ে শীতের অনুভূতি তৈরি হয় না। ভৌগোলিক অবস্থান, বাতাসের গতিপ্রকৃতি, আর্দ্রতা এবং আকাশের মেঘের ওপর নির্ভর করে একেক এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন একেক রকম হতে পারে।

গ্রামাঞ্চলে ভোরের কুয়াশা ঋতু পরিবর্তনের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। রাতের তাপমাত্রা কমে গেলে এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি থাকলে ভোরের দিকে কুয়াশা তৈরি হয়। বিশেষ করে নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের আশপাশে এবং ফসলের মাঠে এ ধরনের কুয়াশা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। খোলা মাঠে রাতের বেলায় তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় ভোরে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে পারে। সূর্য ওঠার পর তাপ বাড়লে কুয়াশা ধীরে ধীরে কেটে যায়।

তবে কুয়াশা দেখা দিলেই যে শীত জেঁকে বসেছে, তা নয়। এখনকার কুয়াশাকে মূলত ঋতু পরিবর্তনের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়তে হলে রাত ও দিনের তাপমাত্রায় ধারাবাহিক পরিবর্তন প্রয়োজন। এ সময় কোনো কোনো দিন সকালটা শীতল মনে হলেও দুপুরে গরম অনুভূত হতে পারে। আবার মেঘলা আকাশ কিংবা বৃষ্টির কারণে দিনের তাপমাত্রায় সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। ফলে এ সময়ে গরম ও শীতলতার মিশ্র অনুভূতি থাকাটাই স্বাভাবিক।

দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পরও দেশের আবহাওয়া পুরোপুরি শুষ্ক হয়ে যায় না। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে কিংবা বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তন ঘটলে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দক্ষিণাঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে বলেই বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে গেছে, এমন ধারণাও সঠিক নয়।

এদিকে শীতের আগমনের সঙ্গে গ্রামীণ জনজীবনেও ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। ভোরে কাজে বের হওয়া কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও পথচারীরা বাতাসে শীতলতা বেশি অনুভব করতে পারেন। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও আবহাওয়ার এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। শীতকালীন সবজি চাষ, জমি প্রস্তুত এবং রবি ফসলের পরিকল্পনায় কৃষকেরা আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির দিকে নজর রাখেন। তবে কুয়াশার স্থায়িত্ব ও ঘনত্ব ফসলের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কৃষকদের স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

কৃষি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আবহাওয়াবিদ মো. রোবাঈয়্যাৎ কবীর জানিয়েছেন, এখন উজ্জ্বল সূর্যকিরণ থাকতে পারে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা। দৈনিক গড় বাষ্পীভবন হতে পারে ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ২ ডিগ্রি কম বা বেশি হতে পারে। আর রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কম বা বেশি হতে পারে।

ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশ কমতে শুরু করেছে। পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা নেমে এসেছে ২০ ডিগ্রির নিচে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রংপুরেও ২০ ডিগ্রির নিচে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সব মিলিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর বিদায়ের পর বাংলাদেশে বর্ষা থেকে শীতের দিকে যাওয়ার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে ভোরের কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর বাতাসে হালকা শীতলতা সেই পরিবর্তনের জানান দিচ্ছে। তবে এখনই তীব্র শীতের পূর্বাভাস ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আগামী দিনগুলোতে রাতের তাপমাত্রা, কুয়াশার বিস্তার এবং বাতাসের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে শীতের অনুভূতি কতটা বাড়বে। আপাতত প্রকৃতিতে শীতের আগমনী সুর শোনা গেলেও শীতের পূর্ণ উপস্থিতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এখন হিম হিম ভাবের কারণ দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে বাতাস আসছে উত্তর দিক থেকে। আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হবে। যত বেশি উত্তরের বাতাস আসবে, তত বেশি ঠান্ডা অনুভূত হবে। এখন যেমন উত্তর দিক থেকে বাতাস আসছে, ফলে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্ষায় সূর্যের কিরণ খাড়াভাবে আসত। এখন তা তির্যকভাবে আসছে। এর কারণে সূর্যের খরতাপ ধীরে ধীরে কমে যাবে। ফলে হিমশীতল অনুভূতি দিন দিন বাড়বে।

তবে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, এবারের শীত হবে ‘ওয়ার্ম উইন্টার’ বা উষ্ণ শীত। এল নিনোর প্রভাবে সারা পৃথিবীতে উষ্ণতা বেড়েছে। এর প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। বিভিন্ন কারণে এবারের শীত উষ্ণ হতে পারে বলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে।

তরিফুল নেওয়াজ বলেন, এবারের শীতে শীতের অনুভূতি যেমন কম হবে, তেমনি শীতকালের ব্যাপ্তিও কমবে। দেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল ধরা হয়। তবে এবার শীতের স্থায়িত্ব ৯০ দিনের কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাতাসের পরিবর্তন এবং সূর্যকিরণ তির্যকভাবে আসার কারণে নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলে বিক্ষিপ্তভাবে শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে। ঢাকায় শীত আসবে ডিসেম্বরে। ওই সময় তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে। শৈত্যপ্রবাহও হতে পারে।

এবার ‘ওয়ার্ম উইন্টার’ হলে বৃষ্টি বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের সরাসরি ব্যাখ্যা না দিয়ে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে শীতের সম্পর্ক নেই। শীতকালে বাতাসের ধরনে পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টি হয়। ভূমধ্যসাগর থেকে আসা বাতাস দেশে প্রবেশ করলে বৃষ্টি হয়। ওই বাতাস মেঘ নিয়ে আসে।

রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪