| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সম্পর্ক: এখনই সময় সম্ভাবনার সর্বোত্তম ব্যবহারের

সীমান্ত, নিরাপত্তা ও রোহিঙ্গা সংকটের চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সহযোগিতা, আস্থা ও আঞ্চলিক সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা সম্ভব

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৫, ২০২৬ ইং | ১৯:৫১:১৮:অপরাহ্ন  |  ২৯২ বার পঠিত
বাংলাদেশ–মিয়ানমার সম্পর্ক: এখনই সময় সম্ভাবনার সর্বোত্তম ব্যবহারের

অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহাদাত হোসেন, পিএসসি (অব.):

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ভৌগোলিকভাবে প্রতিবেশী, অথচ দুই দেশের সম্পর্কের সম্ভাবনা এখনো অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত। দীর্ঘ স্থল ও সামুদ্রিক সীমান্ত, বঙ্গোপসাগর, ঐতিহাসিক যোগাযোগ এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থান—সব মিলিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট, সীমান্তের অস্থিতিশীলতা, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত, মাদক ও মানবপাচার এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি সেই সম্ভাবনাকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

প্রশ্ন হলো, এই জটিল বাস্তবতার মধ্যেও কি বাংলাদেশ ও মিয়ানমার একটি বাস্তববাদী, শান্তিপূর্ণ ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে? আমার বিশ্বাস, পারে। তবে তার জন্য প্রয়োজন আবেগনির্ভর বক্তব্যের পরিবর্তে ধারাবাহিক কূটনীতি, বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা।

ইতিহাসের অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যতের শিক্ষা

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে ভৌগোলিক নৈকট্য বহু পুরোনো। ঔপনিবেশিক শাসনামলে বর্তমান বাংলাদেশের অঞ্চল এবং বার্মা—তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বৃহত্তর প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত ছিল। ১৯৩৭ সালে বার্মা ব্রিটিশ ভারত থেকে পৃথক প্রশাসনিক সত্তায় পরিণত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বার্মা ও তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পূর্বাঞ্চল, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও আশপাশের অঞ্চল, যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হয়ে ওঠে।

ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সীমান্তের দুই পাশে বসবাসকারী মানুষের জীবন, বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও যোগাযোগ পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অতীতের অভিজ্ঞতাকে কেবল স্মৃতিচারণের বিষয় না রেখে শান্তি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রায় ২৭১ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে সামুদ্রিক সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে ভৌগোলিক সংযোগ যেমন বাস্তব, তেমনি সামুদ্রিক অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ, নৌযোগাযোগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সহযোগিতার সুযোগও সুস্পষ্ট।

রোহিঙ্গা সংকট: সম্পর্কের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বাধা রোহিঙ্গা সংকট। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পূর্ববর্তী আগমনসহ বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। দীর্ঘস্থায়ী এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, আইনশৃঙ্খলা ও মানবিক ব্যবস্থাপনার ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে; কিন্তু এই দায়িত্বের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই। এর জন্য প্রয়োজন কার্যকর নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও আইনগত পরিচয়ের নিশ্চয়তা, মৌলিক অধিকার, জীবিকার সুযোগ এবং এমন পরিবেশ, যেখানে প্রত্যাবর্তনকারীরা পুনরায় নির্যাতন বা বাস্তুচ্যুতির শিকার হবেন না।

এ ক্ষেত্রে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট পক্ষ, জাতিসংঘ, চীন, আসিয়ান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক অংশীজনের গঠনমূলক ভূমিকা জরুরি। বাংলাদেশকে তার নীতিগত অবস্থান দৃঢ় রেখে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা আঞ্চলিক যোগাযোগের কোনো উদ্যোগই রোহিঙ্গা সংকটের ন্যায়সংগত সমাধানের বিকল্প হতে পারে না।

নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের জীবন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। সীমান্তে গোলাগুলি, বাস্তুচ্যুত মানুষের অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, মানবপাচার এবং আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ অপরিহার্য।

এ জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ, সামরিক ও নৌ কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, হটলাইন, তথ্য বিনিময় এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার যৌথ প্রটোকল শক্তিশালী করা প্রয়োজন। পরিস্থিতি অনুকূল হলে প্রশিক্ষণ, পেশাগত মতবিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তা বিষয়ে সীমিত ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো যেতে পারে।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য কোনো পক্ষের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা নয়; বরং সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ভুল বোঝাবুঝি কমানো এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ প্রতিরোধ করা।

অর্থনৈতিক সংযোগ: সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সময়

বাংলাদেশের উৎপাদন, বাণিজ্য ও সেবা খাত এবং মিয়ানমারের ভৌগোলিক অবস্থান দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে। কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ, পর্যটন, সীমান্তবাণিজ্য এবং সামুদ্রিক অর্থনীতিতে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক বাস্তবতা, পরিবহনব্যবস্থা, ব্যাংকিং, বাণিজ্যনীতি ও আইনগত কাঠামোর সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিতে হবে।

চীন–মিয়ানমার–বাংলাদেশকে যুক্ত করে একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগকে এখনই অনুমোদিত বা বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়; বরং সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবে এর অর্থনৈতিক সুফল, নিরাপত্তাগত ঝুঁকি, আর্থিক বাস্তবতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য সতর্কভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

যেকোনো আঞ্চলিক করিডরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বাণিজ্যিক স্বার্থ, পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের কল্যাণ এবং আর্থিক টেকসইতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে করিডরকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের শর্ত বা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বরং বাস্তবসম্মত হলে আঞ্চলিক সংযোগ বাণিজ্য ও মানুষের যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে বাণিজ্য সহজীকরণ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সফর, বাণিজ্য মেলা, বাজারসংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং বৈধ সীমান্তবাণিজ্যের জন্য স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা দরকার। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুমতি দিলে পর্যটন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও যৌথ উদ্যোগ বিবেচনা করা যেতে পারে।

জনগণের মধ্যে যোগাযোগই আস্থার ভিত্তি

রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কেবল সরকারি বৈঠক ও চুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী হয় না; মানুষের সঙ্গে মানুষের পরিচয়, বোঝাপড়া এবং সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, থিংক ট্যাংক ও পেশাজীবীদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ চালু করা যেতে পারে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, বাস্তুচ্যুতি, জনস্বাস্থ্য এবং সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা ও নীতিগত মতবিনিময় বাস্তবসম্মত ফল দিতে পারে।

পরিস্থিতি অনুকূল হলে শিক্ষার্থী বিনিময়, বৃত্তি, শিক্ষক ও গবেষক সফর, ভাষা শিক্ষা, সাহিত্য অনুবাদ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। দুই দেশের জনগণ একে অপরের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা ও সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে যত বেশি জানবে, ভুল ধারণা ও দূরত্ব কমানোর সুযোগ তত বাড়বে।

এ ক্ষেত্রে ঢাকায় মিয়ানমার দূতাবাস এবং ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের দূতাবাসের জনসম্পৃক্ততামূলক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক আয়োজন, শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ এবং বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যসংক্রান্ত তথ্য প্রচারের মাধ্যমে দূতাবাসগুলো পারস্পরিক পরিচিতি বাড়াতে পারে।

এমনকি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় অনুমতি অনুকূল হলে দুই দেশের উপকূলীয় জেলেদের অংশগ্রহণে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক মাছ ধরার প্রতিযোগিতা বা মৎস্যবিষয়ক বিনিময় কর্মসূচির কথাও বিবেচনা করা যেতে পারে। এটি বর্তমানে বিদ্যমান কোনো কর্মসূচি নয়; বরং পারস্পরিক আস্থা, নিরাপদ মাছ ধরার চর্চা এবং সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর একটি সম্ভাব্য প্রস্তাব। এ ধরনের আয়োজনের আগে সমুদ্রসীমা, নৌনিরাপত্তা, আবহাওয়া, পরিবেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিশ্চিত করতে হবে।

আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার উভয়েই আঞ্চলিক সহযোগিতার বিস্তৃত কাঠামো থেকে উপকৃত হতে পারে। বিমসটেকের মাধ্যমে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সহযোগিতার সুযোগ খোঁজা যেতে পারে। আসিয়ানের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ এবং মিয়ানমার-সংক্রান্ত আঞ্চলিক উদ্যোগেও গঠনমূলক কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ।

চীন দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় ভূমিকা রাখার সুযোগ রাখে। তবে যেকোনো মধ্যস্থতা বা সহযোগিতা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সম্মতি, বাংলাদেশের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয়ও জরুরি।

বাংলাদেশের উচিত নীতিগত দৃঢ়তা ও বাস্তববাদকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, সীমান্তের নিরাপত্তা এবং মিয়ানমারের সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে; পাশাপাশি যেখানে পারস্পরিক স্বার্থ রয়েছে, সেখানে যোগাযোগের পথ খোলা রাখতে হবে।

এখনই সময় উদ্যোগ নেওয়ার

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর সক্ষমতার ওপর। প্রথমত, রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক কূটনীতি জোরদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং জরুরি যোগাযোগে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে অর্থনৈতিক, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও গবেষণাভিত্তিক যোগাযোগ ধাপে ধাপে বাড়াতে হবে। চতুর্থত, যেকোনো আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জাতীয় স্বার্থ ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রতিবেশী বদলানো যায় না, কিন্তু প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে নীতি, প্রজ্ঞা ও উদ্যোগের মাধ্যমে অগ্রগতি সম্ভব। বাংলাদেশকে তার মানবিক অবস্থান ও জাতীয় স্বার্থে অবিচল থেকে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক কল্যাণের পক্ষে কাজ করতে হবে। মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক স্বার্থের অনুকূলে।

বাংলাদেশ–মিয়ানমার সম্পর্ককে কেবল সংকটের দৃষ্টিতে দেখলে সম্ভাবনার দরজা সংকুচিত হবে। আবার বাস্তব সমস্যাগুলো উপেক্ষা করে সম্ভাবনার কথা বললেও তা টেকসই হবে না। প্রয়োজন এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য—নীতিতে দৃঢ়তা, কূটনীতিতে ধৈর্য এবং সহযোগিতায় বাস্তববাদ। সেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা গেলে দুই দেশের জনগণ, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এবং বৃহত্তর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া একটি অধিক শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।

লেখক: লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শাহাদাত হোসেন, পিএসসি (অব.)

চীনা ভাষা বিশেষজ্ঞ; বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কবিষয়ক গবেষক ও লেখক; অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর, ইনস্টিটিউট অব প্রফেশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি; সাধারণ সম্পাদক, উই স্পিক চাইনিজ ক্লাব বাংলাদেশ লিমিটেড।

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪