| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাজারে উঠছে শীতের সবজি, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ১১:৪০:২৫:পূর্বাহ্ন  |  ২২০২ বার পঠিত
বাজারে উঠছে শীতের সবজি, চড়া দামে বিপাকে ক্রেতারা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতের আগাম সবজি। বাজারে নতুন আলু, টমেটোসহ শীতকালীন নানা সবজির উপস্থিতি বাড়লেও দামের কারণে স্বস্তি ফিরছে না ক্রেতাদের মধ্যে। বরং নতুন সবজির বাড়তি দাম এবং অন্যান্য নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমূল্যে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। দেশি টমেটোর দাম উঠেছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকায়। অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে থাকলেও ঝিঙা, বেগুন, কাঁকরোল, শিম ও টমেটোর মতো কয়েকটি সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি।

শুধু সবজির বাজারেই নয়, মাছের বাজারেও চড়া দামের প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে বড় আকারের মাছ, সামুদ্রিক মাছ ও ইলিশ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা। তুলনামূলক কম দামের মাছের ক্ষেত্রেও কেজিপ্রতি ২০০ টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিমের বাজারে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারে শীতের আগাম সবজি উঠতে শুরু করলেও দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। বিশেষ করে নতুন আলু ও দেশি টমেটোর দাম বেশ চড়া। পাশাপাশি কয়েক ধরনের শীতকালীন সবজি কিনতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। মাছের বাজারেও বড় আকারের মাছ ও ইলিশের উচ্চমূল্য ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে।

বাজারে নতুন আলুর দাম প্রসঙ্গে সবজি ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন জানান, প্রতি কেজি নতুন আলু বিক্রি করছেন ১৬০ টাকায়। তিনি বলেন, বাজারে নতুন কোনো সবজি বা পণ্য উঠলে শুরুতে দাম কিছুটা বেশি থাকে। সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে দাম কমে আসতে পারে।

তবে ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শীতের সবজি বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে দামও কমবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো স্বস্তি মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।

সবজি কিনতে আসা ক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, টেলিভিশনে দেখি, পাঁচ টাকা দিয়েও কেউ লাউ কিনছে না। অথচ রাজধানীর বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকার নিচে কোনো লাউ পাওয়া যাচ্ছে না। অধিকাংশ সবজির দামই ১০০ টাকার আশপাশে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীত এলে সাধারণত সবজির দাম কমার কথা। কিন্তু এবার দেখছি উল্টো চিত্র। বাজারে সবজির সরবরাহ থাকলেও দাম কমছে না। এতে সাধারণ মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ঝিঙার দাম ১০০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১২০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি কেজি কাঁকরোল ১০০ টাকা, কচুমুখী ৮০ টাকা, মুলা ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৮০ টাকা, গাজর ১৪০ টাকা এবং শিম ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ টমেটোর দাম কেজিপ্রতি ১২০ টাকা। তবে দেশি টমেটো কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১৮০ থেকে ২২০ টাকা।

তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে ও মিষ্টিকুমড়া। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা এবং মিষ্টিকুমড়া ৪০ টাকায়। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা, জলপাই ৮০ টাকা এবং নতুন আলু ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির বাজারে কয়েকটি পণ্যের দাম ১০০ টাকা ছাড়ালেও কিছু সবজি এখনো তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও পটোল ৩০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

মুরগির বাজারেও দামের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা। অর্থাৎ ব্রয়লার মুরগির তুলনায় সোনালি মুরগি কিনতে ক্রেতাদের প্রায় ১২০ টাকা বেশি খরচ করতে হচ্ছে।

এদিকে, ডিমের বাজারে প্রতি ডজন বাদামি রঙের (ব্রাউন) ব্রয়লার ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। সাদা ডিমের ডজন ১৩০ টাকা।

মাছের বাজারে চড়া দাম, ইলিশের কেজি ২ হাজার ৬০০ টাকা

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। তবে মাছের ধরন ও আকারভেদে দামের বড় পার্থক্য রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে প্রতি কেজি পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৬০ টাকায়। এ ছাড়া রুই মাছ ৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা, চাষের শিং ৪৫০ টাকা এবং বায়লা মাছ ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, বড় আকারের কাতল মাছের দাম কেজিপ্রতি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। ট্যাংরা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। আইড় মাছের দাম ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। দেশি শিং মাছের কেজি ১ হাজার টাকা। বড় আকারের চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে। আর সাগরের পাঙাশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইলিশের বাজারেও দামের উত্তাপ কম নয়। ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজির হিসাবে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, সাগরের মাছের দাম সব সময়ই বেশি থাকে। হাজার টাকার নিচে এসব মাছ বিক্রি হয় না। আবার দেশি মাছের দামও বেশি। চাষের মাছের দামও ২০০ টাকার ওপরে। আজকে আইড় মাছ ৭০০ থেকে ১ হাজার ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।

তবে বাজারে মাছের দাম বেশি হলেও মানের দিক থেকে কিছুটা সন্তুষ্টি রয়েছে ক্রেতাদের। আজাদ রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, মোহাম্মদপুরের অন্যান্য বাজারের তুলনায় টাউন হল মার্কেটে মাছের দাম একটু বেশি থাকে। দাম বেশি হলেও এখানে তরতাজা মাছ পাওয়া যায়।

সব মিলিয়ে শীতের আগাম সবজির আগমন ঘটলেও রাজধানীর বাজারে এখনো দামের উত্তাপ কমেনি। সবজি, মাছ, মুরগি ও ডিম—প্রায় সব পণ্য কিনতেই ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে শীতের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ ক্রেতারা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪