| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ই–রিকশা কোথায় চলবে, কোথায় নিষেধ, কত গতিতে চলতে পারবে,নতুন বিধিমালা কী বলছে

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ৩০, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৪:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৬৭৬ বার পঠিত
ই–রিকশা কোথায় চলবে, কোথায় নিষেধ, কত গতিতে চলতে পারবে,নতুন বিধিমালা কী বলছে

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীসহ দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। এখন থেকে ইচ্ছেমতো যেকোনো সড়কে চলতে পারবে না এসব যান। নির্ধারিত জোন ও রুট মেনেই চলাচল করতে হবে। একই সঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা, চালকের বয়স, যানবাহনের নিবন্ধন, ফিটনেস, পার্কিং এবং ব্যাটারি চার্জিংয়ের নিয়ম।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় এই গতি কমিয়ে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার করতে হবে। চালক ছাড়া সর্বোচ্চ দুই অথবা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে। চালক হতে হলে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। প্রতিটি ই-রিকশার নিবন্ধন, নম্বরপ্লেট ও ফিটনেস সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক এবং কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিষিদ্ধ সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো নিষিদ্ধ। এক সিটি করপোরেশনের জন্য নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে চালানোর সুযোগও থাকছে না।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত ১২ পৃষ্ঠার এই বিধিমালা দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রযোজ্য হবে। বিধিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কোন সড়কে চলবে, কোথায় সম্পূর্ণ নিষেধ

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে জোনভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে এসব যান চলাচলের রুট নির্ধারণ করবে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জোনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য জোনে চলাচল করতে পারবে না।

চলাচল নিয়ন্ত্রণের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে জোনভিত্তিক বিভক্তকরণ, ই-রিকশার সংখ্যা, চলাচলের সড়ক এবং যানবাহনের রং নির্ধারণ করবে। ফলে একই শহরের বিভিন্ন জোনে ই-রিকশার জন্য আলাদা রং ও চলাচলের সীমা নির্ধারণ করা হতে পারে।

তবে বিধিমালায় রাজধানীর কোন কোন নির্দিষ্ট সড়কে ই-রিকশা চলতে পারবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি। এ তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগকে। তাই নতুন বিধিমালা জারি হওয়ার অর্থ এই নয় যে রাজধানীর সব অলিগলি কিংবা আবাসিক এলাকার সব সড়কে ই-রিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিধিমালার ৭ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস চলাচলের সড়ক বা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) করিডর এবং কর্তৃপক্ষ সময়-সময় যেসব সড়কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে, সেসব সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে না। ফুটপাতেও এসব যান চালানো নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া চালককে সব সময় সড়কের বাঁ পাশের লেন অনুসরণ করে চলতে হবে। গাড়ি চালানোর সময় মুঠোফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য যানবাহনকে ওভারটেক করা এবং অনুমতি ছাড়া লেন পরিবর্তন করা যাবে না।

সর্বোচ্চ গতি ২৫, বিশেষ এলাকায় ১৫ কিলোমিটার

ই-রিকশার বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, এসব যান ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারবে।

তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় সর্বোচ্চ গতিসীমা হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার। এসব এলাকায় চালকদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে।

যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নির্দিষ্ট সীমা। চালক ছাড়া একটি ই-রিকশায় দুই অথবা চারজনের বেশি যাত্রী নেওয়া যাবে না। অর্থাৎ অনুমোদিত দুই বা চার আসনের ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের সুযোগ নেই।

যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য ব্যক্তিগত মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। এ ছাড়া ৪০ ডেসিবেলের বেশি শব্দতীব্রতার হর্ন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

চালক হতে হলে বয়স ১৮ বছর, লাগবে নিবন্ধন

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ই-রিকশা চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিবন্ধন নিতে হবে। চালককে বাংলাদেশের নাগরিক এবং কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে। কোনো উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত ব্যক্তি চালক হিসেবে নিবন্ধন পাওয়ার যোগ্য হবেন না।

নিবন্ধনের জন্য নির্ধারিত ফরমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের সত্যায়িত ছবি, নিবন্ধন ফি জমার রসিদ এবং ফিটনেস সার্টিফিকেট।

আবেদন পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেবে। নিবন্ধিত প্রতিটি ই-রিকশার জন্য কিউআর কোডযুক্ত ইউনিক নিবন্ধন নম্বর ও নম্বরপ্লেট দেওয়া হবে। এই নম্বর ও নম্বরপ্লেট গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে।

ই-রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। মেয়াদ শেষ হলে নির্ধারিত নিয়মে তা নবায়ন করতে হবে। তবে একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে কোনো এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই-রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে।

রিকশার ফিটনেস, প্রযুক্তিগত মান ও আয়ুষ্কাল কত

শুধু নিবন্ধন করলেই হবে না, প্রতিটি ই-রিকশাকে নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মান ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্য পূরণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

প্রতিটি ই-রিকশায় স্পিডোমিটার ও ওডোমিটার স্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ গাড়ির গতি এবং মোট চলাচলের দূরত্ব পরিমাপের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধনের তারিখ থেকে প্রতিটি ই-রিকশার ইকোনমিক লাইফটাইম বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল হবে ১২ বছর। এই মেয়াদ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ই-রিকশার নিবন্ধন ও নম্বরপ্লেট বাতিল করতে হবে।

অন্যদিকে, ই-রিকশার ফিটনেস সার্টিফিকেটের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। নিবন্ধন নবায়নের সময় আবারও গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষা করতে হবে।

বর্তমানে যেসব ই-রিকশা রাস্তায় চলাচল করছে, সেগুলোকেও বুয়েট নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংশোধন করে অনুমোদন নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগের প্রত্যয়নসহ ফিটনেস সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ই-রিকশাগুলোকে বিমার আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।

কোথায় পার্কিং, কীভাবে ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে

ই-রিকশার যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করতেও নতুন বিধিমালায় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের পরামর্শক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে অথবা উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনীয়সংখ্যক পার্কিং এলাকা নির্ধারণ করা হবে।

ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রেও মানতে হবে নির্দিষ্ট নিয়ম। কর্তৃপক্ষ অনুমোদিত এবং সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত চার্জিং পয়েন্ট বা নির্দিষ্ট গ্যারেজে ই-রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে হবে। এসব চার্জিং পয়েন্ট ও গ্যারেজে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বা সৌরশক্তি ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

বিধিমালায় বৈধভাবে নিবন্ধিত চার্জিং স্টেশনে ব্যাটারি চার্জ করার কথা বলা হয়েছে। এসব স্টেশনে নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিড সংযোগের পাশাপাশি সৌর প্যানেলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রাখতে হবে।

প্রয়োজন অনুযায়ী দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ এবং রাতে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা যাবে। চার্জিং স্টেশন স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন নিতে হবে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ করা হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরোনো ব্যাটারি যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না

ই-রিকশার ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশদূষণ রোধেও কঠোর শর্ত যুক্ত করা হয়েছে নতুন বিধিমালায়।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পুরোনো কিংবা অকার্যকর ব্যাটারি বা এর অংশবিশেষ উন্মুক্ত স্থানে, মাটিতে, জলাশয়ে অথবা সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলতে পারবে না।

নতুন ব্যাটারি কেনার সময় বিক্রেতাকে পুরোনো ব্যাটারি সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত ব্যাটারি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদিত পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় পাঠানো নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ব্যাটারি ভাঙা কিংবা গলানোর কাজে নিয়োজিত হতে পারবে না। পুরোনো ও অকার্যকর ব্যাটারি কেবল অনুমোদিত এজেন্ট, ডিলার অথবা সংগ্রহকারীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

নিবন্ধন ছাড়া চালালে কী হবে, কোন কাজগুলো অপরাধ

নতুন বিধিমালায় বেশ কিছু কাজকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, অনুমোদিত গতিসীমার বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অনুমোদিত ব্যাটারি ব্যবহার না করা এবং গাড়ির মোটর বা কাঠামোতে অনুমোদন ছাড়া পরিবর্তন আনা।

এ ছাড়া নিষিদ্ধ সড়কে ই-রিকশা চালানো, বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালানো, যাত্রীর ব্যক্তিগত মালামালের বাইরে বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এসব অপরাধের ক্ষেত্রে বিধিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

দুর্ঘটনা ঘটলে চালককে তাৎক্ষণিকভাবে থানায় অথবা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হবে এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাবে।

ই-রিকশা উৎপাদনেও আসছে অনুমোদন ব্যবস্থা

নতুন বিধিমালায় ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি সুপারিশ প্রদান কমিটি গঠন করা হবে।

কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ট্রাফিক পুলিশ, বুয়েটের প্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি থাকবেন।

কমিটি বুয়েট নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তাবৈশিষ্ট্যের আলোকে ই-রিকশার ডিজাইন, স্পেসিফিকেশন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করবে। এরপর উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হবে। সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উৎপাদন লাইসেন্স দেবে।

এ ছাড়া সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, তফসিলি ব্যাংক কিংবা ফাইন্যান্স কোম্পানি অনুমোদিত মানের ই-রিকশা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এবং সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য চালক ও মালিকপক্ষকে ঋণসহায়তা দিতে পারবে।

বিধিমালা নিয়ে নগর–পরিকল্পনাবিদের উদ্বেগ, বাস্তবায়নই বড় চ্যালেঞ্জ

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন বিধিমালার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নগর–পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান। তবে বিধিমালার বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দুর্বলতা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।

আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শহরের অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা বিপুলসংখ্যক অটোরিকশাকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা কিংবা বাস্তবসম্মত রূপরেখা বিধিমালায় নেই। ফলে আইনবহির্ভূত অটোরিকশাগুলোর ভবিষ্যৎ কী হবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতার অভাব রয়ে গেছে।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে একাধিক অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়াকেও নীতিগত ত্রুটি হিসেবে দেখছেন তিনি। তাঁর মতে, প্রান্তিক চালকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি এনআইডির বিপরীতে একটি অটোরিকশার নিবন্ধনের বিধান থাকা উচিত ছিল। এতে বাণিজ্যিক বিনিয়োগকারীদের হাতে এ খাতের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার আশঙ্কা কমত।

এই নগর–পরিকল্পনাবিদের মতে, আবাসিক এলাকা ও শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে যানবাহনের সুনির্দিষ্ট গতিসীমা বেঁধে না দেওয়াও বিধিমালার অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা। গতিসীমা সুনির্দিষ্ট না থাকলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ও সড়কে বিশৃঙ্খলা কমানো কঠিন হবে।

অন্যদিকে, ব্যাটারি চার্জিংয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের তাগিদ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। পাশাপাশি অকার্যকর ব্যাটারি অপসারণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দণ্ড ও শাস্তির বিধান না থাকায় আইনের প্রয়োগ দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নগর পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে শহরে চলাচলকারী অটোরিকশার মোট সংখ্যা নির্ধারণ, নির্দিষ্ট জোনিং এবং সড়কের ধরন ও অবকাঠামো অনুযায়ী চলাচলের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকা জরুরি বলেও মনে করেন আদিল মুহাম্মদ খান।

তিনি বলেন, নতুন বিধিমালা সফল করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।

সব মিলিয়ে নতুন বিধিমালার মাধ্যমে ই-রিকশা চলাচলকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তবে কাগজে-কলমে নিয়ম তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; কোন সড়কে কতটি ই-রিকশা চলবে, পুরোনো যানগুলো কীভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসবে এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তার কার্যকর বাস্তবায়নই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে রাজধানীর লাখো চালক ও যাত্রীর জন্য নতুন নিয়ম কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং মাঠপর্যায়ের প্রয়োগের ওপর।



রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪