| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১০:৫০:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ৭২৪ বার পঠিত
মিরপুরে শ্রমিক-পুলিশ পালটাপালটি ধাওয়া, মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মিরপুর-১১ এলাকায় ফের সড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকরা। এ সময় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। জবাবে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়েন। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পালটাপালটি ধাওয়া শুরু হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা ও ধাওয়া-পালটাধাওয়া অব্যাহত রয়েছে।

শ্রমিক আন্দোলন ও সংঘাতের কারণে মিরপুর মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ওই এলাকায় চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মেট্রোরেল স্টেশনটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যাত্রীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এবং শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ায় রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া-জিরানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মোট ৬৭৯টি পোশাক কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কাজ না করেই কারখানা থেকে বাড়ি ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ১৬ লাখ ৮০ হাজার ৫৭২ জন শ্রমিক।

সোমবার বিজিএমইএ সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের পাঁচটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে মোট দুই হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি কারখানা খোলা থাকলেও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৬৭৯টি কারখানা। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে যাওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।

বিজিএমইএর তথ্য বলছে, মিরপুর, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সাভার, আশুলিয়া, জিরানী বাজার, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পোশাকশিল্প এলাকাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাব পড়েছে। এসব অঞ্চলের মোট দুই হাজার ১৩৪টি কারখানার মধ্যে এক হাজার ৪৫৫টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু ছিল। অন্যদিকে ৬৭৯টি কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বের হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, মিরপুরের মোট ৩২০টি কারখানার মধ্যে ৫৫টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যান। এসব কারখানায় কাজে অংশ না নেওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৮৪০ জন।

অন্যদিকে গাজীপুর ও ময়মনসিংহ শিল্পাঞ্চলের মোট ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ৩৮২টি কারখানা বন্ধ ছিল। এ দুই অঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে পোশাক উৎপাদন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

সাভার, আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। এসব এলাকার মোট ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২২৩টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রাখেন। এ অঞ্চলে প্রায় সাত লাখ ৪৩ হাজার শ্রমিকের কাজ বন্ধ থাকার তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের ১৯৯টি কারখানার মধ্যে ৯টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা বের হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে চট্টগ্রাম শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল। সেখানে মোট ৩৪০টি কারখানা থাকলেও শ্রমিক অসন্তোষ কিংবা কাজ বন্ধ রাখার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে পালটাপালটি ধাওয়া এবং মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনজীবনেও এর প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।

শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অসন্তোষের ফলে একদিকে পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলগুলোর স্বাভাবিক পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটছে।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪