| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১১ দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে আজই চিঠি পাঠানো হবে: চিফ প্রসিকিউটর

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৩, ২০২৬ ইং | ১৪:২০:৪১:অপরাহ্ন  |  ৮২১ বার পঠিত
শেখ হাসিনা-কাদেরসহ ১১ দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তে আজই চিঠি পাঠানো হবে: চিফ প্রসিকিউটর

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত পলাতক আসামিদের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১১ জনের সম্পত্তি চিহ্নিত করে তা বিক্রির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতের আদেশে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির ৫০ শতাংশ চিহ্নিত করে সরকার নিলাম বা অন্যকোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় বিক্রি করবে। বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের জন্য জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্যকোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর গত এক বছরে দুই ট্রাইব্যুনাল থেকে ৮টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ প্রায় ৭২ জন আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়েছে।

তিনি বলেন, যেসব আসামি গ্রেপ্তার বা কারাগারে রয়েছেন, তাদের কেউ কেউ আইন অনুযায়ী আপিল করেছেন। তাদের আপিল নিষ্পত্তির পর রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি নির্ধারিত হবে। তবে যেসব আসামি পলাতক রয়েছেন এবং রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করেননি, তাদের ক্ষেত্রে আপিলের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়েছে বলে প্রসিকিউশন মনে করছে। ফলে তাদের গ্রেপ্তার করা হলে রায় কার্যকরে আইনগত বাধা থাকার কথা নয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশও রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা আপিল না করায় সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পত্তিগুলো দ্রুত সরকারের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছে প্রসিকিউশন।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও আদেশগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে সরকারকে জানানো প্রয়োজন। এ কারণে আজই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি দ্রুত শনাক্ত করে সরকারের হেফাজতে নেওয়া এবং রায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বিক্রি করে অর্থ শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে বলা হবে।

বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম বলেন, এখনই সম্পত্তির পরিমাণ বা আর্থিক মূল্য নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। সম্পত্তিগুলো স্থাবর না অস্থাবর, সেগুলোর প্রকৃত মূল্য কত- তা শনাক্তকরণ ও মূল্যায়নের পর জানা যাবে। এ কাজ সরকার করবে। ট্রাইব্যুনালের রায় ও আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের।

তিনি জানান, যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে, তাদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, হাসানুল হক ইনু ও মাহবুবুল আলম হানিফ রয়েছেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজনের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ রয়েছে। সব আদেশ যাচাই-বাছাই করে প্রায় ১১ থেকে ১২ জনের সম্পত্তি বিক্রি ও অর্থ বিতরণের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে।

অন্য আসামির আপিলের মাধ্যমে শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের আপিলের সুযোগ তৈরি হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, একজন আসামির আপিলের মাধ্যমে অন্য আসামির আপিলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে না। শেখ হাসিনার পক্ষে কোনো আপিল করা হয়নি। আইন অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে কোনো আসামি আপিল না করলে অনির্দিষ্টকাল তার অপেক্ষায় আদালতের আদেশ ঝুলে থাকতে পারে না। তাই রায় বাস্তবায়নে আইনগত বাধা নেই বলে তারা মনে করছেন।

সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইনি বিধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের নিজস্ব বিধিমালায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান না থাকলেও পাবলিক ডিমান্ডস রিকভারি অ্যাক্ট এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারার আওতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রায় বাস্তবায়নে আইনগত বাধা নেই। এ বিষয়ে আলাদা বিধিমালা প্রণয়ন করা গেলে তা আরও ভালো হবে। তবে বিদ্যমান আইনেই রায় বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, রোম স্ট্যাটিউটে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে। প্রথম দিকের কয়েকটি রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়টি ওইভাবে স্পষ্ট করে উল্লেখ না থাকলেও আইন ও বিধি অনুসরণ করেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।

বরখাস্ত প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো হয়নি

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ এবং তার ইতালি চলে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ওই প্রসিকিউটরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চাকরিচ্যুতও করা হয়েছে। আমি যোগদানের এক মাসের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তবে তার বিদেশে যাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকায় তিনি কোথায় যাবেন, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কিছু করার ছিল না।

ঘুষ চাওয়ার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘুষ চাওয়া ও দেওয়া- দুটিই অপরাধ। যারা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন, তারাও সমানভাবে দায়ী। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪