| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বগুড়া সাতমাথায় সমবায় ব্যাংকের দোকানঘর দখলমুক্ত করে ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ

reporter
  • আপডেট টাইম: নভেম্বর ০৪, ২০২৬ ইং | ১৪:১৬:২৩:অপরাহ্ন  |  ৯১ বার পঠিত
বগুড়া সাতমাথায় সমবায় ব্যাংকের দোকানঘর দখলমুক্ত করে ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের নিজস্ব ভবনের দোকানঘর দখলমুক্ত করে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে ভবনের পাঁচটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে চুক্তির শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তাঁরা দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।

বুধবার বগুড়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বগুড়ার প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী নওয়াব আলতাব আলী চৌধুরীর উদ্যোগে নিজ বাসভবনে সমবায় ব্যাংক লিমিটেড বগুড়ার যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন লাভ করে এবং ১৯২৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণের পর সাতমাথায় ব্যাংক ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষের ঐতিহ্য বহনকারী প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে প্রায় শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক।

লিখিত বক্তব্যে ব্যাংকের সভাপতি বলেন, ১৯৯২ সালে ব্যাংকের সাতমাথার ভবনটির মালিকানা দাবি করে একটি পক্ষ আদালতে মামলা করে। এ সময় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে মালিকানা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রয়োজনীয় দলিল ও প্রমাণাদি আদালতে দাখিল করলেও মামলাটি দীর্ঘদিন চলমান থাকে। পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের পক্ষে মামলা পরিচালনায় উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি নিজের অর্থ ব্যয় করে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলাটি পরিচালনা করেন। শেষ পর্যন্ত আদালত থেকে ব্যাংকের পক্ষে রায় আসে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি পূর্বের বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা থেকে নেওয়া ঋণের প্রায় ৭৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিকভাবে গতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে ব্যাংকের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও কাজ করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যাংক ভবনের কয়েকজন ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ ও চুক্তিপত্র নবায়ন না করে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তাঁদের কারণে ব্যাংক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। বিশেষ করে কয়েকজন ভাড়াটিয়া একটি পক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে ব্যাংকের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে একপর্যায়ে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পেতেও সমস্যার সম্মুখীন হন।

ব্যাংকের বর্তমান সভাপতি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৎকালীন সভাপতি অনুপস্থিত থাকায় ব্যাংকের শর্ত পূরণ করে তিনি তৃতীয়বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ব্যাংক পরিচালনা কমিটির সভায় সাতমাথার পুরোনো ভবনটি ভেঙে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ভবনটির নাম রাখা হয়েছে ‘সমবায় টাওয়ার’। সেখানে জেলার সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সমবায় অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাংক ভবনের দোকানঘরগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সেখান থেকে ব্যাংকের আর্থিক সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। পরে জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিচতলার দোকানঘরগুলো অত্যন্ত স্বল্পমূল্যে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকের সঙ্গে যথাযথ ভাড়ার চুক্তি না করেই কয়েকজন ভাড়াটিয়া দোকানঘর ব্যবহার করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, সমবায় অধিদপ্তর ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে চুক্তিপত্রের ৮ ও ৯ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ২৯(০৫) অনুযায়ী নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে তিন মাসের সময় দিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হলেও ভাড়াটিয়ারা দোকানঘর ছেড়ে দেননি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল আরও জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে তিনি চতুর্থবারের মতো ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন পরিষদ ব্যাংকের সার্বিক সমস্যা সমাধান এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ রক্ষায় কাজ করতে চায়।

তিনি বলেন, সমবায়ীদের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যাংকের নিজস্ব দোকানঘরগুলো দ্রুত বুঝে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আগে বগুড়ার প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সমবায়ী ও সর্বস্তরের বগুড়াবাসীকে বিষয়টি অবহিত করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, সাতমাথার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত ব্যাংকের নিজস্ব সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে আধুনিক নান্দনিক ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণ করা গেলে জেলার সমবায়ীদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সমবায়ীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন ব্যাংকের সভাপতি।

রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪