মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুর সদর উপজেলার শিবপুর গ্রামে এক মুদি ব্যবসায়ীর বাড়ির প্রধান ফটকে কাফনের কাপড়, হত্যার হুমকিসংবলিত চিরকুট ও বোমা সদৃশ বস্তু ঝুলিয়ে রেখে গেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে এসব সামগ্রী দেখতে পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় দুর্বৃত্তদের হুমকির পাশাপাশি সন্দেহভাজন বিস্ফোরক উদ্ধারের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় দুই ব্যক্তি ঝুঁকি নিয়ে ব্যাগটি সরানো ও পানিতে ডোবানোর চেষ্টা করেন। এ দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব ও জননিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশের দাবি, তাদের নির্দেশে নয়, বরং অতি উৎসাহী হয়ে স্থানীয় ওই দুই ব্যক্তি নিজেরাই ব্যাগটি সরানোর কাজে যুক্ত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবপুর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার রুহুল আমিনের ছেলে মুদি ব্যবসায়ী পিন্টুর বাড়ির প্রধান ফটকে রাতের কোনো এক সময় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা একটি শপিং ব্যাগ ঝুলিয়ে রেখে যায়। শুক্রবার ভোরে পিন্টুর ছোট ভাই সুমন বাড়ির গেটের তালা খুলে বাইরে যাওয়ার সময় ব্যাগটি দেখতে পান। প্রথমে তিনি ধারণা করেন, দোকানের জন্য কেউ হয়তো মালামাল রেখে গেছে। পরে মোবাইল ফোনের আলোতে ব্যাগের ভেতরে কাফনের কাপড়, তিনটি ককটেল সদৃশ বস্তু ও তিন পাতার একটি হুমকিসংবলিত চিরকুট দেখতে পান। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রিকাবুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সামগ্রীগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধার কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাড়ির গেটে ঝুলিয়ে রাখা ব্যাগটির পাশে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি উৎসুক মানুষের ভিড়। এ সময় কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা এক যুবক কালো বালতিতে পানি নিয়ে ব্যাগটি ডোবানোর চেষ্টা করছেন। কিছুক্ষণ পর গেঞ্জি ও লুঙ্গি পরা আরেক যুবকও সেখানে এগিয়ে আসেন। তাঁকে ব্যাগটির কাছে যেতে দেখে আশপাশের লোকজন সতর্ক করেন। একপর্যায়ে ব্যাগটি ধরার সময় পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘তুই যেভাবে ধরছিস, এটা তো তোর জন্য রিস্ক।’
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, কাছেই উপস্থিত ছিলেন এসআই রিকাবুল ইসলাম। তাঁর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে ইশারা করে ব্যাগটি পানিতে ভালোভাবে ডোবানোর নির্দেশনা দেওয়ার দৃশ্যও দেখা যায়। অথচ স্থানীয় ওই দুই ব্যক্তির হাতে কোনো দৃশ্যমান সুরক্ষাসামগ্রী ছিল না।
সন্দেহভাজন বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, এ ধরনের বস্তু পাওয়া গেলে প্রথমেই ঘটনাস্থল নিরাপদ করা, আশপাশের মানুষকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রশিক্ষিত বিশেষায়িত দলের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। কারণ, বিস্ফোরক সদৃশ কোনো বস্তু না বুঝে স্পর্শ করা, সরানো কিংবা নাড়াচাড়া করলে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ অবস্থায় ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকার পরও কেন স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে দিয়ে ব্যাগটি সরানোর কাজ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে প্রচলিত নিরাপত্তাবিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকেরা।
এ বিষয়ে রামদাসপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রিকাবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কিন্তু কাউকে বলিনি। আমরা বুঝে ওঠার আগেই তারা ব্যাগটি নিয়ে চলে আসে। মূলত প্রাথমিক তদন্তের জন্য সেখানে আমরা দুজন গিয়েছিলাম। অতি উৎসাহী হয়ে তারা এই কাজটি করেছে। আমরা তাদের বলেছি, এটা নিয়ে যেভাবে ছেলেখেলা করছেন, এটি কিন্তু সেরকম জিনিস নয়।’
এ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামিনুর রহমান খানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব