সিনিয়র রিপোর্টার :
সিনিয়র রিপোর্টার : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেছেন। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা ও আন্দোলনকারী ছাত্রজনতাকে প্রয়োজনীয় সব আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠকালে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন তিনি। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ শুরু করেন প্রধান উপদেষ্টা। এ সময় মঞ্চের দুই পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।
বৃষ্টির মধ্যেই বক্তব্য শুরু করে ইউনূস বলেন, আল্লাহর রহমত হচ্ছে। সেই রহমত সঙ্গে নিয়েই আমি এই ঐতিহাসিক ঘোষণা পাঠ করছি। তার এ বক্তব্যের সময় অনেকে করতালির মাধ্যমে সমর্থন জানান।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে গণভবনমুখী জনতার উত্তাল যাত্রার মুখে চব্বিশের ৫ আগস্ট অবৈধ শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
ড ইউনুস বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং লুটপাটের দ্রুত উপযুক্ত বিচার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিগত ১৬ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রাম কালে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক সংঘটিত গুম-খুন, হত্যা, গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও সব ধরনের নির্যাতন, নিপীড়ন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুণ্ঠনের অপরাধসমূহের দ্রুত উপযুক্ত বিচারের দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করা হচ্ছে।
ইউনুস বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যুক্তিসঙ্গত সময়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। বাংলাদেশের জনগণ যুক্তিসঙ্গত সময়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুতি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের মানুষের প্রত্যাশা, বিশেষত তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী আইনের শাসন ও মানবাধিকার, দুর্নীতি, শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।
এর আগে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ অনুষ্ঠান। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ ঘিরে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জমায়েত হয়েছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের নেতারা। পাঠ শেষে উপস্থিত রাজনৈতিক দলের প্রধানদের সঙ্গে কোলাকুলি বা বুক মেলান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আছেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এবং গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।
উল্লেখ্য, প্রবল গণআন্দোলনের মুখে এক বছর আগে আজকের এই দিনে শেখ হাসিনার সুদীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটে। ছাত্র-জনতার যে আন্দোলন পরিচিতি পেয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ নামে। এ দিবস উপলক্ষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে। রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ড্রোন শো।