বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ‘অ্যাক্সিলারেটিং ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেড কানেক্টিভিটি ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া (ACCESS)-বাংলাদেশ’ প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৩ মে) বিকেল ৩টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দর কার্যালয়ে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ও প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। সভাপতিত্ব করেন বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপসচিব মোহাম্মদ শামীম হোসেন।
সভায় দক্ষিণ এশিয়ায় পরিবহন ও বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত ‘অ্যাক্সেস’ প্রকল্পের অগ্রগতি, বাস্তবায়ন কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ শামীম হোসেন বন্দরের সার্বিক উন্নয়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও শ্রমিকদের সুবিধা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে এবং আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি শ্রমিকদের জন্য খাবার ও বিশ্রামের সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ক্যান্টিন বা রেস্টুরেন্ট সুবিধাসহ অন্তত একতলা ভবন নির্মাণের দাবি জানান। এছাড়া অবৈধ প্রবেশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর নজরদারির প্রস্তাবও দেন।
বন্দরে জনবল সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৬ সালে বন্দরে ২১৬ জন কর্মী থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪২ জন। এ ঘাটতি দ্রুত পূরণের দাবি জানান তিনি।
প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বক্তাদের মতামত গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, জমির মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত নীতিমালার মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গত ডিসেম্বর ২০২৫ ও জানুয়ারি ২০২৬-এ প্রকল্প পরিচালকের পরিবর্তনের কারণে কিছুটা ধীরগতি তৈরি হলেও নতুন টিম দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। কনসালটেন্ট ফার্ম ও বাস্তবায়নকারী সংস্থার কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, গঠনমূলক মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রকল্পটিকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক মো. রুহুল আমিন, সহকারী কাস্টমস কমিশনার আরতি গোস্বামী, শার্শার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়াজ মাখদুম, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যান্ড ডাটা এডিটিং অফিসার শাহিদ হাসানসহ বন্দর ব্যবহারকারী, জমির মালিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা এবং বন্দর ও কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বেনাপোল স্থলবন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি