আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ এবং অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম)। মানবাধিকার সংস্থাটি মন্ত্রীর বিবৃতিকে 'অবাস্তব ও সরলীকরণ' আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
মাসুম এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ২০ আগস্ট সংসদের উচ্চ কক্ষে দেওয়া মন্ত্রীর বক্তব্যে সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলো উপেক্ষা করা হয়েছে। সংস্থাটি বিশেষভাবে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন নং ২০৩-এর কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে আন্তর্জাতিক সীমান্তের ঠিক পাশে অবস্থিত গ্রামগুলির বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ ছিল ।
মাসুম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সীমান্ত এবং কাঁটাতারের বেড়ার মাঝখানে বসবাস করতে বাধ্য হওয়া গ্রামবাসীদের স্থানান্তরের সমস্যা সমাধানে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে।সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি কেবল জমি অধিগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই অঞ্চলে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করারও একটি বিষয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কাঁটাতারের বেড়া এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত স্তম্ভগুলির মধ্যবর্তী জমিগুলি গ্রামবাসীদের নিজস্ব এবং সেখানে তারা চাষাবাদ করেন। যদি জাতীয় স্বার্থে এই জমিগুলির প্রয়োজন হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জন্য স্বচ্ছ ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন এবং পুনঃস্থাপনের প্রস্তাব আনা সরকারের দায়িত্ব।
মাসুমের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, সীমান্ত বেড়া নির্মাণ সরাসরি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ২০-৩০ লক্ষ নাগরিককে প্রভাবিত করবে, যাদের জমি সীমান্তের পাশেই অবস্থিত। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে, অনেক স্থানে কাঁটাতারের বেড়া এবং আউট পোস্ট ভারতীয় ভূখণ্ডের ৫-৬ কিলোমিটার ভেতরে নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে কৃষকরা তাদের নিজেদের জমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন।
এই নীতি শুধু কৃষকদের জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে না, বরং বিপুল সংখ্যক মানুষকে চরম দুর্দশা এবং জোরপূর্বক স্থানান্তরে বাধ্য করছে।সংস্থাটি হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, এই সমস্যাগুলি বহু দশক ধরে উত্থাপিত হলেও কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই এটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেনি।
মাসুমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আধুনিক বেড়া নির্মাণের নামে উর্বর ও আবাদযোগ্য জমি অধিগ্রহণ কৃষকদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সংসদ সদস্যরা এই বিষয়ে অবগত থাকলেও সরকার প্রধানরা তা বিবেচনা করেননি।পরিস্থিতি বিবেচনা করে মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, ভারত সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারা যেন সেই সকল মানুষের কথা ভাবেন, যারা তাদের নির্বাচিত করেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/সোহাগ