জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন তিনি ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দল হিসেবে কাজ করেছেন। খবর আল–জাজিরার।
ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্র লক্ষ্য করে রোববার রাতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে লিখেছেন, “আমরা ইরানে পারমাণবিক কেন্দ্রতে সফলভাবে হামলা সম্পন্ন করেছি। যারমধ্যে আছে ফর্দো, নাতানজ এবং ইসফাহান। (হামলায় অংশ নেওয়া) সব বিমান এখন ইরানি আকাশসীমার বাইরে রয়েছে।”
যুক্তরাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অন্তত দুই থেকে চারটি বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান মোতায়েন করেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিমান ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ফর্দো পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে সক্ষম।
ইরানে ইসরায়েলের বেআইনি ও আগ্রাসী সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ। এ আগ্রাসনকে আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ ও ইরানের সার্বভৌমত্বের মারাত্মক লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। আশঙ্কার মেঘ বিশ্বজুড়ে। এর মধ্যে এই যুদ্ধে নয়া মোড়। বেশিরভাগ দেশ ইরানের আক্রমণের নিন্দা করলেও, এমন একটি দেশ আছে যারা ইসরায়েলের আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব। উত্তর কোরিয়ার স্বৈরশাসক কিম জং উন ইরানের উপর ইসরায়েলি হামলার নিন্দা করেছেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া বারবার ইসরায়েলকে জানিয়েছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বলেছেন, রাশিয়া ইরানকে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি উন্নয়নে সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইরানের দুটি ড্রোন ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে দেশটির উত্তরাঞ্চলে ও দক্ষিণাঞ্চলে পৃথক হামলা চালিয়েছে। যা অনেকটা অবাক করেছে ইসরায়েলকে। হামলার বিষয়টি স্বীকার করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি একটি বিরল ঘটনা, যেখানে ইরানের একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন সফলভাবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে।
ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ চেয়ে যখন ইউরোপীয় কূটনীতিকরা জোর আহ্বান জানাচ্ছেন, ঠিক সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন—তিনি ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ করতে বলবেন না।
ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের উত্তরাঞ্চলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়া নিউজ।
ইরানে অব্যাহত ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরাক, তুরস্ক, লেবানন, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। এসব বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগানে রাজপথ মুখর করেন তাঁরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের খবর কীভাবে প্রকাশ করবে, সে বিষয়ে দেশটি একটি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। গত বুধবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সেন্সরশিপ বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কোবি ম্যান্ডেলব্লিট এক বিজ্ঞপ্তিতে কিছু নিয়মনীতি ঘোষণা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, যা সব সময়ই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ইসরায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, কোনো গণবিধ্বংসী অস্ত্রচুক্তিতে অংশ না নেওয়া একটি শাসকগোষ্ঠীর (ইসরায়েল) পক্ষ থেকে এসব নিরাপদ পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালানো গুরুতর অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা সর্বশেষ দফার হামলায় ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব স্থাপনার মধ্যে নেভাতিম ও হাতজেরিম ঘাঁটিও রয়েছে।