জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বক্তৃতায় রাশিয়ার দূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেছেন, ইসরায়েল কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রতি ‘স্পষ্ট অবজ্ঞা’ দেখিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইসরায়েল জাতিসংঘ সনদের প্রতি কোনো সম্মান না দেখিয়ে সার্বভৌম রাষ্ট্র ইরানের ওপর একতরফাভাবে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অল্প কিছুক্ষণ আগে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর দেশজুড়ে বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বেজে উঠেছে।
ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর কলাম লেখক ও বিশ্লেষক গিডিওন লেভি বলেছেন, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ট্রাম্প কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারেন—এই ইঙ্গিতে নেতানিয়াহু ও তাঁর জোট গভীর হতাশায় পড়ছেন। কারণ নেতানিয়াহু চান, ট্রাম্প যেন যত দ্রুত সম্ভব এই যুদ্ধে যুক্ত হন।
শুক্রবার (২০ জুন) এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে পেজেশকিয়ান লিখেছেন, ‘আমরা সব সময় শান্তি ও স্থিতিশীলতা চেয়েছি। চলমান চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অবসানের একমাত্র পথ হলো শত্রুর আগ্রাসন নিঃশর্তভাবে বন্ধ করা এবং জায়নিস্ট সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসিক তৎপরতা চিরতরে বন্ধের সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা।’
‘ইতিহাস নিজেকে নিজেই পুনরাবৃত্তি করে’ কার্ল মার্ক্স এর এই বিখ্যাত উক্তির মতই দশা এখন কট্টর ইসলাম বিদ্বেষী ইসরায়েলের ইহুদিদের। ১৯৪৮ সালে ঠিক যেভাবে ইউরোপ ও রাশিয়া থেকে ফিলিস্তিনে প্রবেশ করেছিলো দখলদাররা ঠিক সেই পথেই এবার পালাতে বাধ্য হচ্ছে ওরা। ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে এখন জাহাজে আর নৌকাতে করেই পালানোর পথ বেছে নিয়েছেন দখলদার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দেশের সাধারণ নাগরিকরা।
ইরানের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে। এখনো তারা নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারই শুরু করেনি। পুরানো অস্ত্রের হামলাতেই বিধ্বস্ত হয়েছে ইসরাইলের গুরুত্বপুর্ণ সব স্থাপনা। এমন প্রেক্ষাপটে ইরানকে বারবার সমঝোতার প্রস্তাব দিচ্ছে আমেরিকা। তবে এসব প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইসরায়েল হামলা চালিয়ে গেলে তিনি কারও সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নন।
ইসরায়েলের বিরসেবা শহরে মাইক্রোসফটের কার্যালয়ের একদম কাছে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। আবাসিক ভবনগুলোতে আগুনে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে গেছেন অগ্নিনির্বাপককর্মী ও প্যারামেডিকসরা।
ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিলে সমগ্র অঞ্চলের জন্য নরক নেমে আসবে। বিবিসিকে এমনটাই বলেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদে। সাঈদ খতিবজাদে বলেন, ‘এটা আমেরিকার যুদ্ধ নয়।’
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আগে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৪তম দফার হামলা চালিয়েছে। এ হামলায় এক গুচ্ছ কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের (১৯ জুন) হামলায় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের বলে দাবি করেছে ইরানের গণমাধ্যম।
ফোনালাপে পুতিনকে চিনপিং বলেন, ‘সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলো—বিশেষ করে ইসরায়েল—যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতিতে যাক; যাতে পরিস্থিতি আরও না বেড়ে যায় এবং যুদ্ধ অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো যায়।’
বিবিসির খবরে বলা হয়, এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই আহ্বান জানান খামেনি। তিনি জনগণের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শত্রু যদি বুঝতে পারে আপনি তাদের ভয় পাচ্ছেন, তাহলে তারা আপনাকে ছাড়বে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা এখন পর্যন্ত যেভাবে আচরণ করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন; সেই আচরণই আরও দৃঢ়তার সঙ্গে চালিয়ে যান।’
ইরান-ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন একটি বিবৃতি দিয়েছেন যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক পদক্ষেপের প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, জোর দিয়ে বলেছেন যে তেহরান এই সংঘাতে ‘‘একা নয়’’।
ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার (১৮ জুন) রাতে আইআরজিসির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে জর্ডানের সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ।
এবার ইসরায়েলের দিকে নতুন ধরনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। ছোড়ার পর এগুলো যাওয়ার সময় ধোঁয়ার কুণ্ডলির এক ভিন্ন দৃশ্য দেখা গেছে। এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।