খাদেমুল বাবুল, জামালপুর: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বইছে ভোটের হাওয়া। নির্বাচনী প্রস্তুতিতে তৎপর রয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জনমত বাড়াতে জনসংযোগ করছেন তারা। মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন নিজ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী একাধিক নেতা সরব থাকলেও জামায়াতে ইসলামী ঘোষণা করেছে একক প্রার্থী। অন্যান্য দলগুলোর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যেও চলছে যাচাই-বাছাই। জামালপুরের ৫টি আসনের মধ্যে জামালপুর-৩ আসনটিকে অত্যন্ত গুরুতের সাথে দেখছে রাজনৈতিক দলগুলো।
জাতীয় সংসদের-১৪০, জামালপুর-৩ মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসন থেকে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। যে কারণে এই আসনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই আসন থেকেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম টানা সাত বার সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। যার অধিকাংশ নির্বাচন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে আলোচিত- সমালোচিত ।
জামালপুর-৩ (মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসাবে দুইজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তারা হলেন-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মেলান্দহ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নব্বইয়ের স্বৈরাচার আন্দোলনের অন্যতম ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী।
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল দলের মনোনয়ন পেতে নিয়মিত গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দুই উপজেলার সকল নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানা গেছে। পতিত সরকারের আমলে তিনি বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর দলীয় নির্দেশনায় নানান কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন সাবেক এই ছাত্র নেতা। একাধিক মামলায় কারাবন্দীও ছিলেন তিনি। এছাড়া বাবুল এ আসন থেকে কয়েকবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ের দ্বাপ্রান্তে মির্জা আজম ও আওয়ামী লীগের ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর কাছে হেরে গেছেন।
এই আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে অধ্যাপক মাওলানা মো. মুজিবুর রহমান আজাদীকে। তিনি মেলান্দহ উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ও জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য। দলে গ্রিনসিগন্যাল পেয়ে তিনি নিয়মিত ভোটের মাঠে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দেখা গেছে, দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি তিনি যোগ দিচ্ছেন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। এ আসনে জামায়াতের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ বলে মনে করেন সাধারণ ভোটাররা। তবে দলটির নেতাকর্মীদের দাবি, তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি অনেক মজবুত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব লুৎফর রহমান। তিনি দল গোছানোর পাশাপাশি নির্বাচনে দলের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এই আসনে এনসিপির এখনো তেমন কোন সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে উঠেনি।
এছাড়া অন্যান্য দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মেলান্দহ উপজেলা সভাপতি মুফতী রফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য মুফতি মো. জাহিদুল ইসলাম, জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মুফতি শামছুদ্দীন, জেলা জাকের পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ আলী, জেলা গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি আরিফুল ইসলাম তুহিন সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে আলোচনায় রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব