রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১৩) প্রেমের ফাঁদে ফেলে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাহিদুল ইসলাম নাফিজ (২০) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত রায়হান শেখ এখনও পলাতক রয়েছে।
রোববার (১০ মে) দুপুরে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুই যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
আটক নাহিদুল ইসলাম নাফিজ গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ফকিরপাড়ার এলেম মণ্ডলের ছেলে। তিনি সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের শিক্ষার্থী। অপর অভিযুক্ত রায়হান শেখ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের শহীদের দোকান এলাকার কুদ্দুস শেখের ছেলে।
ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে প্রায় দুই মাস ধরে রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সময় তাদের পরিচয় হয়।
শনিবার (৯ মে) রাত ১০টার দিকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে রায়হান ও তার বন্ধু নাহিদুল মোটরসাইকেলে করে কিশোরীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তাকে শহীদের দোকান এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে হত্যার ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানান, অভিযুক্তরা মদ ও ওষুধ সেবন করে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। রাত ১২টার দিকে বাড়ির সামনে নামিয়ে দিতে এলে তিনি চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় রায়হান পালিয়ে গেলেও নাহিদুলকে মোটরসাইকেলসহ আটক করা হয়। পরে এলাকাবাসী তাকে স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে আটকে রেখে সকালে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
আটক নাহিদুল ইসলাম দাবি করেন, তার বন্ধু রায়হান প্রথমে ধর্ষণ করে এবং পরে তাকে ডাকে। তবে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং এক অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও অন্যান্য আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন