স্টাফ রিপোর্টার: নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম অভিযোগ করেন, ‘বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকার দেশের ব্যবসায়ীদের চেয়ে বিদেশিদের কথায় বেশি গুরুত্ব দেয়। আমরা আমাদের সমস্যাগুলো সরকারকে জানাতে চেয়েও বারবার ব্যর্থ হয়েছি।’
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্স ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিকেএমইএ সভাপতি এসব অভিযোগ করেন।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘প্রতিবছর আমাদের চট্টগ্রাম বন্দরে ভালো মুনাফা হচ্ছে। সর্বশেষ বছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি মুনাফা করেছে এই বন্দর। তার পরও সরকার বিভিন্ন পণ্য সেবার মাশুল একলাফে ৪১ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি ৫-১০ শতাংশ বাড়ানো যেত, কিন্তু একলাফে ৪১ শতাংশ বাড়ানো কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’
তিনি বলেন, ‘বিদেশি কোনো পক্ষের কাছে বন্দর ছেড়ে দেওয়ায় পরিচালনার ব্যয় যদি না কমে, তাহলে সেটি করে আমাদের স্বার্থ কী? বিদেশি একটি পক্ষকে বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, এতে খরচ তো কমার কথা। উল্টো মাশুল বাড়ানো হচ্ছে। এটি তো হওয়ার কথা নয়।’
চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাক্ষাৎ পাননি বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু। এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে নেগোসিয়েশন করতে হলে তার (প্রধান উপদেষ্টা) সঙ্গে বসতে হয়। তিনি যদি সময় না দেন তাহলে কিভাবে নেগোসিয়েশন করব? আমরা বারবার সময় চেয়েও সময় পাইনি।’
বিজিএমএই সভাপতি বলেন, ‘আমরা গত চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েও পাইনি। অথচ স্টারলিংকের কোম্পানি স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তার সঙ্গে উনি দেখা করেন। যে কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। অথচ তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) ৪০ বিলিয়ন ডলারের খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন না।’
সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে।’
শ্রম আইনের সংশোধন নিয়ে মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘ভারসাম্যহীন ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত টিসিসি ও ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ধাপে ধাপে শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। যেখানে প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে সেটি পরিবর্তন করে ২০–৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে পাঁচটি।’
তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা বিবর্জিত। কারণ মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হলে কারখানাগুলোতে এমন ব্যক্তিরা ট্রেড ইউনিয়ন করবেন, যারা ওই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এটি অন্তঃদ্বন্দ্ব ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে ও উৎপাদন ব্যাহত করবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হবেন।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব