আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :
ভারত এবার কড়া কূটনৈতিক বার্তা দিতে চলেছে আন্তর্জাতিক মহলে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ বাড়াতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক আর্থিক নজরদারি সংস্থা FATF (ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স)-এর শরণাপন্ন হতে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ জানাতে চলেছে, তারা যেন পাকিস্তানের জন্য প্রস্তাবিত ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা প্যাকেজ জুন মাসে অনুমোদনের আগে পুনর্বিবেচনা করে।
একইসাথে, পাকিস্তানকে FATF-এর ধূসর তালিকায় (Grey List) পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারত। এই তালিকায় থাকলে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনে কড়া নজরদারি চালানো হবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ ও মূলধনের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। পাকিস্তান ২০১৮ সালে FATF-এর গ্রে লিস্টে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং ২০২২ সালে সন্ত্রাসে অর্থ জোগান বন্ধের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে তালিকা থেকে বের হয়। পাকিস্তান দাবি করেছিল যে তারা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠিয়েছে ও তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে।
ভারত সরকারের বক্তব্য, পাকিস্তান যে এখনও কার্যত সন্ত্রাসে পরোক্ষ সমর্থন জারি রেখেছে, তা স্পষ্ট। এই অবস্থায় ৯ মে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) যখন পাকিস্তানকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেইলআউট প্যাকেজ দেয়, তখন ভারত তার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। যুদ্ধ সদৃশ পরিস্থিতির মধ্যেই এই প্যাকেজ মঞ্জুর হওয়াকে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে নয়াদিল্লি। ভারতের তরফে এই অসন্তোষ সরাসরি IMF-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভার কাছে জানানো হয়।
তবে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও দেশকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিপক্ষে নয়, তবে তা যেন জঙ্গি কার্যকলাপ বা অস্ত্র কেনার কাজে ব্যবহার না হয়, এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে সতর্ক থাকতে হবে। IMF-এর তথ্য উদ্ধৃত করে ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তান অতীতে ২৮টি বেইলআউট প্রোগ্রামের বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় করেছে অস্ত্র ও নিরাপত্তা খাতে, অথচ দেশের আর্থিক পুনরুদ্ধারে তেমন মনোযোগ দেয়নি।
সূত্র অনুযায়ী, ভারত IMF-এর এই বিষয়টি জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির অর্থমন্ত্রীদের কাছেও তুলেছে এবং আশা করছে, ভবিষ্যতে এমন বেইলআউট অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
তবে এই আপত্তির মধ্যেও, পাকিস্তানের জন্য IMF-এর পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে যে ১১টি নতুন শর্ত আরোপ করা হয়েছে, তা ভারত স্বাগত জানিয়েছে।
নয়াদিল্লির মতে, এই শর্তগুলি অন্তত কিছু মাত্রায় আন্তর্জাতিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করবে।এই অবস্থায় পাকিস্তানের আর্থিক ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তেমনই ভারতের এই কূটনৈতিক সক্রিয়তা আন্তর্জাতিক মহলেও বড়ো বার্তা দিচ্ছে—সন্ত্রাসবাদে পরোক্ষ সমর্থনের মূল্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিসরে গুনতেই হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব