আন্তর্জাতিকডেস্ক: আফগানিস্তানে পোস্ত চাষ কমে যাওয়ার পর বিশ্বের অবৈধ আফিমের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে মিয়ানমার। দেশটিতে পোস্ত চাষ ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি)।
সংস্থাটির সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, এক বছরে মিয়ানমারে পোস্ত চাষ বেড়েছে ১৭ শতাংশ। গত বছর ৪৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে পোস্ত চাষ হলেও ২০২৪–২৫ মৌসুমে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩ হাজার ১০০ হেক্টরে। তবে চাষ বেড়েছে, কিন্তু হেক্টরপ্রতি উৎপাদন সেই হারে বাড়েনি। ইউএনওডিসির ব্যাখ্যা, মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কৃষকেরা পর্যাপ্ত ফলন তুলতে পারছেন না।
পোস্ত চাষ বাড়ার অন্যতম কারণ আফিমের দাম বৃদ্ধি। ২০১৯ সালে যেখানে কেজিপ্রতি তাজা আফিমের দাম ছিল ১৪৫ ডলার, বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২৯ ডলারে। ফলে অনেক কৃষক জীবিকা ও মুনাফার আশায় এ চাষে ঝুঁকছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারেও মিয়ানমার–উৎপাদিত হেরোইনের প্রবাহ বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে ইউএনওডিসি। ইউরোপীয় ড্রাগস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শুরুতে থাইল্যান্ড হয়ে ইউরোপগামী ফ্লাইটে প্রায় ৬০ কেজি হেরোইন আটক হয়েছে, যা মিয়ানমার ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আসা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউএনওডিসির আঞ্চলিক প্রতিনিধি ডেলফিন শান্টজ বলেন, আফিম অর্থনীতির এই পুনরুত্থান শুধু মিয়ানমার নয়, পুরো অঞ্চলের মাদকবাজারে বড় প্রভাব ফেলবে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখনই আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি