রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬ সালের হজ মৌসুমকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গুজব তুমুলভাবে ছড়িয়ে পড়ে—পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে নাকি সম্পূর্ণ ফটোগ্রাফি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি ভিড় নিয়ন্ত্রণের অংশ হিসেবে মোবাইলে ছবি কিংবা ভিডিও ধারণও বন্ধ করে দিচ্ছে সৌদি কর্তৃপক্ষ এমন দাবিও ভাইরাল হয় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।
কিন্তু সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এসব তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং অসত্য। সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়সহ কোনো সরকারি দপ্তরই এমন কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। বরং কর্তৃপক্ষ বলছে, ছবি তোলার বিষয়ে যে পুরোনো নির্দেশনা ছিল, সেটিই এখনো বহাল রয়েছে। কোনো নতুন নীতি জারি করা হয়নি।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থারাও বিষয়টি যাচাই করে নিশ্চিত করেছে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব দাবি প্রচার পেয়েছে, তার কোনো সরকারি প্রমাণ বা নীতিগত ঘোষণা নেই। কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে ভিড় কমানোর অজুহাতে ছবি ও ভিডিও নিষিদ্ধ করার যে গল্প ছড়ানো হয়, তা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত।
স্বনামধন্য ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন জানায়, পবিত্র দুই মসজিদে ফটোগ্রাফি সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন হয়নি। প্রতিবার হজ কিংবা রমজানের সময়েই অনেকে যাচাই না করেই ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়, ফলে সাধারণ হাজিরা বিভ্রান্ত হন। তাই হাজিদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ শুধু সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যেই বিশ্বাস করতে হবে।
তবে অতীতে কিছু নিয়ম জারি হয়েছিল। যাতে পেশাদার ক্যামেরা, বড় আকারের ফটোগ্রাফি সরঞ্জাম বা এমন ছবি তোলা সীমিত করা হয়, যা অন্য মুসল্লিদের ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ছবি তোলাও নিষিদ্ধ করা ছিল। ২০১৭ সালের দিকে এসব বিষয়ে কঠোরতা বাড়ানো হয়। কিন্তু মোবাইলে সাধারণ স্মারক ছবি তোলা এ সংক্রান্ত নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম