| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ভারত ট্রাম্পের ‘মস্তিষ্ক’ নিয়োগ করেছে, পাকিস্তান বেছে নিয়েছে তাঁর ‘শক্তি’: ওয়াশিংটনে লবিং যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

reporter
  • আপডেট টাইম: মে ২৭, ২০২৫ ইং | ১০:১৩:১৪:পূর্বাহ্ন  |  ১৮৩৪৩২১ বার পঠিত
ভারত ট্রাম্পের ‘মস্তিষ্ক’ নিয়োগ করেছে, পাকিস্তান বেছে নিয়েছে তাঁর ‘শক্তি’: ওয়াশিংটনে লবিং যুদ্ধের নতুন অধ্যায়
ছবির ক্যাপশন: ওয়াশিংটনে লবিং যুদ্ধের নতুন অধ্যায়

আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি :

কাশ্মীর উপত্যকায় প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা, সীমান্তে সংঘর্ষ এবং ভারতের অপারেশন সিন্দুরের মতো সীমিত আকারের সামরিক অভিযানের মধ্যেই ভারত ও পাকিস্তান এবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবল লবিং প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। দুই দেশই ওয়াশিংটনে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্তর্বর্তী বৃত্ত থেকে দুই ভিন্নধর্মী চরিত্রকে নিয়োগ করেছে—ভারত জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও বার্তা কৌশল বিদ জেসন মিলারকে, আর পাকিস্তান প্রাক্তন দেহরক্ষী এবং ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিথ শিলারকে।


ভারত সরকার জেসন মিলারের সঙ্গে এক বছরের চুক্তি করেছে, যেখানে তিনি মাসিক ১.৫ লক্ষ মার্কিন ডলার রিটেইনার পাচ্ছেন বলে 'পলিটিকো' (একটি আমেরিকান রাজনৈতিক ডিজিটাল সংবাদপত্র) সূত্রে জানা গেছে। মিলার ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কৌশলবিদ হিসেবে পরিচিত, যিনি প্রেসিডেন্টের নির্বাচনী প্রচারে ও অভ্যন্তরীণ বার্তা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দিল্লির ধারণা, মিলারের অভিজ্ঞতা এবং ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রবণতা বোঝার ক্ষমতা ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বৃত্তে ভারতের অবস্থানকে জোরদার করতে সহায়ক হবে। ট্রাম্প যদি পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন, তবে মিলারের উপস্থিতি ভারতের জন্য এক বিপুল কূটনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।


অন্যদিকে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে তাদের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিথ শিলার কে নিয়োগ করেছে জাভেলিন অ্যাডভাইজার্স-এর মাধ্যমে। শিলার একজন প্রাক্তন এনওয়াইপিডি অফিসার যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন, প্রথমে ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে এবং পরে ওভাল অফিস অপারেশনের পরিচালক হিসেবে। ২০১৭ সালে তিনি এফবিআই পরিচালক জেমস কমি কে বরখাস্তের চিঠি হাতে করে পৌঁছে দেন, যা মার্কিন প্রশাসনের ইতিহাসে একটি নজরকাড়া ঘটনা ছিল। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সফরে সঙ্গী হতেন এবং প্রেসিডেন্টের চিকিৎসা সংক্রান্ত গোপন নথি সংগ্রহের ক্ষেত্রেও যুক্ত ছিলেন।


শিলার তার আনুগত্য, নিরবতা ও কর্তৃত্বের জন্য পরিচিত। তার নিয়োগ পাকিস্তানের একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ তিনি ট্রাম্পের নিরাপত্তার আড়ালে থাকা অথচ অভ্যন্তরীণ বৃত্তে প্রবেশাধিকারসম্পন্ন একজন ব্যক্তি। তার সহ-প্রতিষ্ঠিত জাভেলিন অ্যাডভাইজার্স-এর মাধ্যমে পাকিস্তান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে।


এই দুই নিযুক্তির সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনাগুলি ঘটে চলেছে এমন এক মুহূর্তে, যখন পহেলগাঁওয়ে পাকিস্তানি জঙ্গিদের হামলায় ২৬ জন ভারতীয় নিহত হন এবং ট্রাম্প ১০ মে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির ডাক দেন ও কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন—যা নয়াদিল্লি তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ঐতিহাসিকভাবে, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত বাফার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং আফগান যুদ্ধ থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে ওয়াশিংটনের অনুদান পেয়েছে। সেই তুলনায়, ভারত সাম্প্রতিক দশকে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং এখন অপারেশন সিঁদুরের পর কূটনৈতিক মঞ্চেও সপ্রতিভ।


জেসন মিলার এবং কিথ শিলার, ট্রাম্প প্রশাসনের দুই গুরুত্বপূর্ণ এবং বহু আলোচিত চরিত্র, এখন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পরমাণু শক্তিধর দেশের মুখপাত্র ও কৌশলগত দূতের ভূমিকায়। মিলার যেখানে ট্রাম্পের চিন্তা ও বার্তার নেপথ্য নির্মাতা, শিলার সেখানে তাঁর ব্যক্তিগত শক্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক। একদিকে রয়েছে বার্তা কৌশল ও রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তা, অন্যদিকে রয়েছে অনুগত্য ও প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা।


এই অনন্য লবিং যুদ্ধ একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন—যেখানে ওয়াশিংটনে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে যোগাযোগ কেবল বন্ধুত্বের বিষয় নয়, বরং কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এক কৌতূহলজনক মোড়ে এসে, ভারত বেছে নিয়েছে ট্রাম্পের মস্তিষ্ককে, আর পাকিস্তান নিয়েছে তাঁর শক্তিকে। দুই পক্ষই বুঝেছে—ওয়াশিংটনে কে আপনার হয়ে কথা বলছে, সেটাই ভবিষ্যতের গতি নির্ধারণ করতে পারে।


রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪