উত্তম কুমার (বাউফল প্রতিনিধি):
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে পশু বেচাকেনায় জমে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া গবাদি পশুর হাট। এ হাটে উপকূলীয় চরাঞ্চলে লালন পালন করা গরু মহিষের সরবরাহ বেশি থাকায় দেশ জুড়ে এ হাটের খ্যাতি রয়েছে। সপ্তাহে প্রতি সোমবার এ হাট বসে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা এ হাটে ভীড় করেন।
সোমবার (২৮ মে) সরেজমিনে হাট ঘুরে দেখা যায়, উপকূলীয় জেলা ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, বরিশাল অঞ্চল থেকে প্রান্তিক কৃষক, খামারী ও ব্যবসায়ীররা হাটে গরু, মহিষ, ছাগল বিক্রি করতে নিয়ে এসেছেন। এসব পশু কিনতে ঢাকা, চট্রগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর, দিনাজরপুর সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বড় পাইকাররা এসেছেন। বাজারে বড় গরুর তুলনায় ছোট ও মাঝারি গরু বেশি কেনাবেচা হচ্ছে।
ছোট গরু ৬০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা ও মাঝারি গরু ৯৫ থেকে ১ লাখ ১১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় গরু দেড় লাখ থেকে তিন লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতার চেয়ে বাজারে দেশের অন্যান্য এলাকার ক্রেতারাই বেশি। হাটে গরুর সরবারহ বেশি থাকায় দাম অনেকটা কম বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
ভোলার মুজিব নগর এলাকার গরু ব্যবসায়ী মো. কালাম ফরাজি বলেন, ১৫টি গরু বিক্রি করতে নিয়ে এসেছি। তবে গরুর দাম তুলনামুলক কম। গত সপ্তাহের তুলনায় গরু প্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার গরু ব্যবসায়ী মো. সোহরাব বয়াতি বলেন, বাজারে গরুর চাপ বেশি। তাই দাম কম। দুর থেকে হাটে গরু নিয়ে আসায় বাধ্য হয়ে কম দামেই গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।
নোয়াখালী থেকে গরু কিনতে আসা ব্যবসায়ী মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, এটি বড় হাট। এখানে দেশী গরু মহিষের বেশি সরবরাহ থাকে। যেকারণে আমি এ হাটে আসি। এবার ৪৫ টি গরু কিনেছি।
চাঁদপুরের ব্যবসায়ী লাল মিয়া বলেন, এই হাটে প্রাকৃতিকভাবে লালন পালন করা মহিষ পাওয়া যায়। এসব মহিষ চরাঞ্চলে উন্মুক্তভাবে লালন পালন করায় মাংস সুস্বাদু হয়। এর চট্রগ্রাম অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই আমরা এখানে মহিষ কিনতে আসি।
কালাইয়া গবাদি পশুর হাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি মো. আতাহার সিকদার জানান, গত রোববার রাত থেকে হাটে গরু আসতে শুরু করে। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাট কমিটির পাশাপাশি নৌ পুলিশ সদস্যরাও টহলে রয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব