রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় এক দশক অপেক্ষার পর অবশেষে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)–তে শুরু হচ্ছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার বিচার। ‘বৈশ্বিক আদালত’হিসেবে পরিচিত এই আদালতে আজ সোমবার থেকে মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজি–তে দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) থেকে এই শুনানিপর্ব শুরু হবে। আদালত সূত্র জানায়, টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া।
রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলার তদন্তকারী সংস্থা ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার (IIMM)–এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)–কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। এর জের ধরে একই মাসে রাখাইনের সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে দেশটির সেনাবাহিনী।
অভিযানের নামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হন সাধারণ রোহিঙ্গারা। সেনাবাহিনীর সহিংসতার মুখে পড়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন, যারা এখনো এখানেই বসবাস করছেন।
রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের পরপরই জাতিসংঘ একটি স্বাধীন অনুসন্ধান দল গঠন করে। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘গণহত্যার স্পষ্ট আলামত’ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা দায়ের করে। সোমবার যে শুনানি শুরু হচ্ছে, তা সেই মামলারই বিচারিক কার্যক্রমের অংশ।
উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা নিধন অভিযানের সময় মিয়ানমারের সরকারপ্রধান ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন তিনি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। গাম্বিয়া মামলা দায়ের করার পরও সুচি অভিযোগগুলোকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে মন্তব্য করেন।
পরবর্তীতে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন অং সান সুচি। বর্তমানে তিনি মিয়ানমারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং সেনাশাসিত আদালতে দুর্নীতির একাধিক মামলায় তার বিচার চলছে।
আইসিজিতে দায়ের করা রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, এই মামলা গণহত্যার সংজ্ঞা, প্রমাণের মানদণ্ড এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির আশায় এই বিচারকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকারকর্মীরা।
সূত্র: রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম