স্পোর্টস ডেস্ক: প্রত্যাশার বিপরীতে ম্যাচের প্রথমার্ধে দারুণ চমক দেখিয়েছে জাপান। শক্তিশালী ব্রাজিলকে গোলশূন্য রেখে উল্টো ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে গেছে সামুরাই ব্লুরা। ম্যাচের ২৯তম মিনিটে মিডফিল্ডার কাইশু সানোর দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটেই লিড পায় জাপান।
প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল ব্রাজিলের পায়ে। হাইড্রেশন বিরতির সময় পর্যন্ত সেলেসাওদের দখলে ছিল ৭৪ শতাংশ বল এবং তারা পাঁচটির মধ্যে চারটি শট নেয়। তবে লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল মাত্র একটি শট। অন্যদিকে কম বল দখলে রেখেও সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুত পাল্টা আক্রমণে কার্যকর ফুটবল খেলেছে জাপান।
২৭তম মিনিটে কর্নার থেকে স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদার হেড অল্পের জন্য বার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। দুই মিনিট পরই আসে ম্যাচের একমাত্র গোলটি। মাঝমাঠে বল পেয়ে কাইশু সানো দ্রুত এগিয়ে গিয়ে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার কাসেমিরোকে পেছনে ফেলে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালে জড়ান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি ছিল সানোর প্রথম গোল।
গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় ব্রাজিল। ৩৪তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বক্সের বাইরে থেকে শট নিলেও জাপানের গোলরক্ষক সহজেই তা ঠেকিয়ে দেন। পরে লুকাস পাকেতা ও মাতেউস কুনিয়ার মধ্যে আক্রমণভাগের সমন্বয় নিয়ে অসন্তোষও দেখা যায়। কুনিয়া একটি শট নিলেও সেটিও খুব বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠেনি।
৩৫ মিনিটের পর থেকে ব্রাজিল আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করলেও জাপানের রক্ষণভাগ ছিল দুর্ভেদ্য। ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডাররা একসঙ্গে নিচে নেমে এসে ব্রাজিলের আক্রমণ প্রতিহত করেন। বিশেষ করে রিৎসু দোয়ান রক্ষণে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে কাসেমিরো আবারও ভুল করে বসেন। জাপানের দাইচি মায়েদা তার কাছ থেকে সহজেই বল ছিনিয়ে নেন, যদিও সেই আক্রমণ থেকে আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি জাপান। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে অতিরিক্ত সময়ে হলুদ কার্ড দেখেন জাপানের দাইচি কামাদা।
চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করা হলেও ব্রাজিল গোল শোধ করতে পারেনি। বরং জাপান শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বলের দখল ধরে রেখে নিজেদের রক্ষণ আরও শক্তিশালী করে তোলে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি