আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতায় প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা। তিনি জানান, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা কর্মীসহ সাধারণ নাগরিকও রয়েছেন। দুই সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতায় হতাহতের বিষয়ে এ তথ্য সরকারি স্তরে প্রথমবার প্রকাশ করা হলো।
ইরানি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনী উভয়ের মৃত্যুর পেছনে সন্ত্রাসীদের জড়িত থাকার প্রমাণ আছে। তবে তিনি নিহত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ মোকাবিলায় দ্বৈত দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন করে আসছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যা বিষয়ক প্রতিবাদকে আংশিকভাবে বৈধ বলে স্বীকার করে, কিন্তু কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দেশের অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে। এদিকে, একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই শত শত নিহতের নাম চিহ্নিত করা হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক ও গোয়েন্দা পদক্ষেপ বিবেচনা করছে। সূত্র অনুযায়ী, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সাইবার অভিযান এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপের জন্য প্রচারণা কিছু বিকল্পের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকা দেশগুলোর পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী, তবে যুদ্ধের জন্যও প্রস্তুত রয়েছে। হোয়াইট হাউজে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি