আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে দেশটিতে ইন্টারনেট শাটডাউন প্রায় ১২০ ঘণ্টা বা ৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ার এক এক্স-পোস্টের মাধ্যমে এই তথ্য জানায়।
ক্লাউডফ্লেয়ার তাদের পোস্টে উল্লেখ করেছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ জনগণ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা অনলাইনে যোগাযোগ এবং তথ্য আদানপ্রদান করতে পারছেন না। শাটডাউনের কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ সংবাদপ্রবাহও ব্যাহত হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানের বিভিন্ন শহরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই ব্ল্যাকআউট শুরু হয়। ইরানি নাগরিকরা জানিয়েছেন, ব্ল্যাকআউটের কারণে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইন সংবাদ এবং শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেন না। বিশেষ করে সাংবাদিক এবং মানবাধিকার কর্মীদের জন্য তথ্য সংগ্রহ এবং রিপোর্টিং অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইন্টারনেট শাটডাউন মূলত সরকারের সমালোচনা এবং বিক্ষোভের খবর আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়া রোধ করার উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী ব্ল্যাকআউট অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে, কারণ অনলাইন ব্যাংকিং, ই-কমার্স এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ স্থবির হয়ে গেছে।
ক্লাউডফ্লেয়ার ইরানের ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করছে। প্রতিষ্ঠানটি সতর্ক করেছে, এই ব্ল্যাকআউট দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জনগণকে স্বাভাবিক যোগাযোগের সুবিধা ফিরে পেতে আরও সময় লাগতে পারে।
অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইরানের কিছু শহরে সীমিত পরিসরে মোবাইল ইন্টারনেট সক্রিয় থাকলেও তা অত্যন্ত ধীর এবং সীমিত সাইটে প্রবেশযোগ্য। ফলে জনগণ এখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুক্ত হতে পারছেন না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও ইরানের এই দীর্ঘমেয়াদী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে এবং নাগরিকদের তথ্য ও যোগাযোগের অধিকার রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি