| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ ইং | ১০:৩২:৪৫:পূর্বাহ্ন  |  ২১০২২৩ বার পঠিত
ইরান বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবুও সব সতর্কতা উপেক্ষা করে আজ বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে এরফান নামের এক তরুণের ফাঁসি কার্যকরের প্রস্তুতি নিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনাকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি কার্যকর করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব কঠোর পদক্ষেপ’ নেবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ট্রাম্প বলেন, তারা ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছে। এখন আমরা মৃত্যুদণ্ডের খবর শুনছি। দেখা যাক, এটা তাদের জন্য কী পরিণতি বয়ে আনে।

এরই মধ্যে তেহরানের প্রসিকিউটররা ঘোষণা দিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’—অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের মামলা দায়ের করা হবে। ইরানের আইনে এই অভিযোগে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, চলমান আন্দোলন দমনে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়ে থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের জন্য সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে ট্রাম্পের কঠোর বক্তব্যকে ‘সামরিক হস্তক্ষেপের অজুহাত তৈরির কৌশল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, ওয়াশিংটনের এই পুরোনো কৌশল আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এবারও ব্যর্থ হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান নীতি মূলত সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই পরিচালিত যার অংশ হিসেবে নিষেধাজ্ঞা, হুমকি, অস্থিরতা সৃষ্টি এবং বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে সামরিক হস্তক্ষেপের পথ তৈরি করা হয়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, কয়েক রাত ধরে চলা দেশব্যাপী বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করছে এবং পাঁচ দিনের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ রেখে দমন-পীড়নের প্রকৃত চিত্র আড়াল করার চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক ভিডিওগুলো পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। এক ভিডিওতে তেহরানের দক্ষিণাঞ্চলের কাহরিজাক মর্গে সারি সারি মরদেহ দেখা যায়। কালো ব্যাগে মোড়ানো এসব লাশের পাশে স্বজনরা নিখোঁজ আপনজনদের খুঁজতে মরিয়া হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ আংশিকভাবে চালু করা হলেও তা শুধু দেশের বাইরে কল করার জন্য সীমিত ছিল বলে জানিয়েছেন এএফপির এক সাংবাদিক। সংযোগ ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং বারবার বিচ্ছিন্ন হচ্ছিল।

এর আগেই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ইরানিদের উদ্দেশে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমি ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সব বৈঠক বাতিল করেছি। সহায়তা আসছে।” তবে কোন বৈঠক বা কী ধরনের সহায়তার কথা তিনি বলেছেন সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

সব মিলিয়ে, এরফানের ফাঁসি কার্যকর হলে ইরানের অভ্যন্তরীণ সংকট যেমন গভীর হবে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর প্রতিক্রিয়া আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪