স্পোর্টস ডেস্ক: জাতীয় নারী ফুটসাল দল “সাবিনাদের” ইতিহাস গড়ার পর আবারও বিশেষভাবে বরণ করা হচ্ছে। প্রথমবার ২০২২ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ছাদখোলা বাসে বরণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে শিরোপা ধরে রাখার পরও দেশে ফেরার সময় একই অনুষ্ঠান করা হয়। এবারও প্রথমবারের মতো সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়া সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার ও দলের অন্য সদস্যদের জন্য ছাদখোলা বাসে বরণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বাফুফে সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টায় সাবিনাদের ঢাকা বিমানবন্দরে ফেরার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ছাদখোলা বাসে করে পুরো দলকে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হবে। হাতিরঝিলে একটি বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানও আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে হাতিরঝিলে না হলে বিকল্প ভেনুতে অনুষ্ঠান হবে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব সংবাদ মাধ্যমে জানান, পুরো দলকে ছাদখোলা বাসে নিয়ে শহর প্রদক্ষিণ করা হবে এবং বিজয়ীদের সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নারী দলের ম্যানেজার ইমরানুর রহমান বলেন, ছাদখোলা বাসে করে পুরো দলকে নেওয়ার খবর পেয়েছি। সংবর্ধনা হাতিরঝিলে হবে, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী বিকল্প স্থানও নেওয়া যেতে পারে।
২০২৬ সালের সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দলের পথচলা ছিল অসাধারণ। থাইল্যান্ডে শুরু হওয়া টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচে ভারতকে ৩-১ গোলে হারানোর পর ভুটানের বিপক্ষে নাটকীয়ভাবে ৩-৩ গোলে ড্র করে লাল-সবুজরা। এরপর নেপালকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে শিরোপার দিকে এগিয়ে যায়। শ্রীলঙ্কাকে ৬-৩ গোলে উড়িয়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে হারানোর পর বাংলাদেশের দল শিরোপার আরও কাছে পৌঁছায়। শেষ ম্যাচে দুর্বল মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে।
ব্যক্তিগত দিক থেকে, সাবিনা খাতুন শিরোপা জয়ের পথে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। টুর্নামেন্টে তিনি সর্বোচ্চ ১৪টি গোল করেছেন এবং বাংলাদেশ দলের আক্রমণ শক্তি উজ্জ্বল করেছেন। সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলা—এই পাঁচজন খেলোয়াড়ের জন্য এই সাফল্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে তাদের এক সময় দল থেকে বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে এবার তারা সুযোগ পেয়ে নিজেদের দক্ষতা ও প্রতিভা প্রদর্শন করে ইতিহাস রচনা করেছেন।
এবারের বরণ ও সংবর্ধনা কেবল চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নয়, সমগ্র দেশের নারীদের জন্য উদ্দীপনা ও অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য হবে। এটি প্রমাণ করে যে, সমর্থন, সুযোগ এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে নারী খেলোয়াড়রাও আন্তর্জাতিক ক্রীড়ায় দেশের মান উজ্জ্বল করতে সক্ষম।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি